https://www.facebook.com/islamicfreewillhttps://www.facebook.com/islamicfreewill
মাইজভান্ডারী
(মাইজভন্ডারী
পীর ও তার অনুসারীদের মতবাদ)
“মাইজভান্ডারী
পীর” বলতে চট্রগ্রাম মাইজভান্ডার দরবার-এর প্রতিষ্টাতা শাহ সূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ
উল্লাহ মাজভান্ডারী-কে বোঝানো হয়েছে। তার পিতার নাম মৌলভী সৈয়দ মতিউল্লাহ। তার
মাতার নাম খায়রুন্নেছা। তিনি ১২৪৪ হিজরী মোতাবেক ১২৩৩বাংলা, ১৮২৬ ইংরেজী ১লা মাঘ
রোজ বুধবার জন্মগ্রহণ করেন। চার বৎসর বয়স পার হওয়ার পর তাকে গ্রাম্য মক্তবে আরবী ও
বাংলা শিক্ষা দেয়া হয়। ১২৬০ হিজরীতে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ৮ বৎসর
লেখাপড়া করার পর ১২৬৮ সালে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া সমাপ্ত করেন। তারপর এক
বৎসর যশোর জেলার বিচার বিভাগে কাজীপদে দায়িত্ব পালন করেন। তার পীর হযরত সূফী সৈয়দ
মোহাম্মাদ ছালেহ লাহোরী। মাইজভান্ডারী পীর ১৯০৬ ঈসায়ী, ১৩২৩ সনে, বাংলা ১৩১৩ সালে
১০ই মাঘ মোতাবেক ২৭ জিলক্বদ সোমবার ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর তার পূত্র
মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন তার স্থলাভিষিক্ত হন।
Jতথ্যসূত্র: গাউছুল আজম মাউজভান্ডারীর জীবনী অ কেরামত, সংকলন সংরাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী, পঞ্চদশ প্রকাশ জুলাই-২০০২।
Jতথ্যসূত্র: গাউছুল আজম মাউজভান্ডারীর জীবনী অ কেরামত, সংকলন সংরাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী, পঞ্চদশ প্রকাশ জুলাই-২০০২।
মাইজভান্ডারী পীর ও তার
অনুসারীদের আকিদা-বিশ্বাসঃ
মাইজভান্ডারী গাউছিয়া আহমদিয়া
মঞ্জিল, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ- থেকে বেশ কিছু বই-পত্র প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে
মাইজবান্ডারী পীরের পূত্র মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন
কর্তৃক রচিত অ সম্পাদিত গ্রন্থ হল “বেলায়েতে মোতলাকা”, “মূলতত্ত্ব বা তজকীয়ায়ে
মোখতাছার”, “মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া” এবং মাইজভান্ডারী পীরের জীবনী
গ্রন্থ “মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত”। আরও রয়েছে শাহজাদা সৈয়দ মুনিরুল হক,
মোনতাজেম গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, মাইজভান্ডার দরবার কর্তৃক প্রকাশিত মাইজভান্ডারী
গানের সংকলন- “রত্ন ভান্ডার” এবং “আয়েনায়ে বারী ও ফয়জিয়াতে গাউছে মাইজভান্ডারী”
প্রভৃতি। এ সব পুস্তক-পুস্তিকার আলোকে মাইজভান্ডারী পীর ও তার অনুসারীদের
আকীদা-বিশ্বাস সমন্দ্বে যা জানা যায় তা হল------
১. ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ।
এই “ধর্ম
নিরপেক্ষতা” কথাটা প্রচলিত অর্থে ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়। বরং এ মতবাদ অনুসারে যে কোন
ধর্মের লোককেই তার স্বধর্মে রেখে তাকে মুরীদ বানানো হয় এবং এটাকেই তার মক্তির জন্য
যথেষ্ট মনে করা হয়। মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহনের আবশ্যকতা আছে বলে মনে করা হয়
না। বরং মনে করা হয়- হিন্দু, বৌদ্ব, খৃস্টান যে কোন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্মে থেকে
সাধনা করে মুক্তি পেতে পারে।
“মাইজভান্ডারীর
জীবনী অ কেরামত” গ্রন্থে “হযরতের ধর্ম নিরপেক্ষতাঃ বৌদ্ধ ধননজয়কে স্বধর্মে রাখিয়া
শিক্ষা” শিরোনামে লেখা হয়েছেঃ একদিন সকালে নাস্তার সময় নিশ্চিন্তপুর নিবাসী বৌদ্ধ
ধননজয় নামক এক ব্যক্তি আসিয়া হযরতের নিকট ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হইবার জন্য বারবার
অনুরোধ করতে লাগিলেন।………………. হযরত তাহাকে
বলিলেন, “মিয়া! তুমি তোমার ধর্মে থাক। আমি তোমাকে মুসলমান করিলাম”। ইহার পরও তিনি
বসিয়া রহিলেন। হযরতের খাদেম মৌলভী আহমদ ছফা কাঞ্চননগরী সাহেব তাহাকে পিছন হইতে
ইশারা করিয়া ডাকিয়া নিলেন এবং বুঝাইয়া দিলেন যে, তাহাকে হাকিকত্বে মুস্লিম করা
হইয়াছে। এ গ্রন্থেই আর এক পৃস্টা পরে জনৈক হিন্দু মুন্সেফ অভয়চরণকে স্বধর্মে রেখে
দীক্ষা ও উপদেশ দানের কথা বর্ণিত হয়েছে।
J তথ্যসূত্রঃ
মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত, সংকলন সংগ্রাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী, পঞ্চদশ প্রকাশঃ
জুলাই-২০০২,পৃষ্টা: ১৫১-১৫২।
তারা এই
ধর্ম-নিরপেক্ষতার আর এক নাম দিয়েছেন “তাওহীদ আদ্ইয়ান” তথা সর্ব ধর্মের ঐক্য। তাদের
বক্তব্য হল যেকোন ধর্ম ঘৃণা থেকে বিমুখ করে তোলা যায়। এভাবে সব ধর্মের মধ্যে
সমন্ব্য সাধন করা যায়। মাইজভান্ডারী সিলসিলার দ্বিতীয় পীর শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার
হোসাইন (মৃত ১৯৮২ ইং) কর্তৃক রচিত “বেলায়েতে মোতালাকা” নামক গ্রন্থে “বেলায়েতে
মোকাইয়্যাদা যুগ বিকাশ” শিরোনামের অধীনে “পরিবতিত বেলায়েতে মোতালাকা যুগ”
উপশিরোনামে লেখা হয়েছেঃ
“সময়ের
ব্যবধানে ও ইসলামী হুকুমাতের অবসানের ফলে ইস্লামী ধরমজগতে নানা এখতেলাফ বা
মতানৈক্য দেখা দেয়। তখন পরম করুনাময় আল্লাহ তা’আলা তাঁহার বাতেনী শাসন পদ্ধতির
প্রথানুযায়ী সমুচিত হেদায়েত ও উপযুক্ত শক্তিশালী ত্বরীক্তের প্রভাবে জগৎবাসীকে
অন্দধকার হইতে সহজতম ভাবে উদ্ধার মানসে বেলায়েতে মোকাইয়্যাদায়ে মোহাম্মদীকে
“বেলায়েতে মোতালাকায়ে আহমদী” রূপে পরবরতিত করেন। -------ইহা বিভিন্ন ধর্মীয়
মতবাদকে নীতিগত ভাবে একই দৃষ্টিতে দেখে। কারণ ইহা মনে করে যে, বিভিন্ন মতবাদের “মত
ও পথ” বিভিন্ন হইলেও প্রত্যেকের গন্তব্যস্থল এক”।
J তথ্যসূত্রঃ
বেলায়েতে মোতালাকা, আলহাজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবার গাউছুল আজম
মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত,৮ম সংস্করণ, এপ্রিল২০০১, পৃষ্টা:৫৬-৫৭।
তারপর এই কথিত
তৌহিদে আদ্ইয়ান বা ধর্ম ঐক্যের প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত পেশ করা
হয়েছেঃ
“যারা মু’মিন,
যারা ইয়াহুদী, এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন-(এদের মধ্যে) যারাই আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস
রাখে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয়
নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সূরাঃ২-বাকারাঃ৬২)
অথচ এ আয়াতে
যে কোন ধর্মের লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা ঈমান আনলে এবং নেক কাজ করলে
তারা পরকালে মুক্তি পাবে। আর একথা স্পষ্ট যে, ইসলাম ধর্ম আগমনের পর রাসূল (সাঃ) কে
আখেরী নবী না মানলে তার ঈমান পূর্ন হবেনা। আর রাসূল (সাঃ)কে আখেরী নবী মানলে
অন্যান্য সব ধর্মের বিধান রহিত মানতে হয়। তাহলে অন্য কোন ধর্মে থেকে মুক্তির অবকাশ
রইল কোথায়?
উক্ত গ্রন্থে
আরও লেখা হয়েছে, “মানবের রূচী অনুযায়ী ধর্ম মত গ্রহনেরে এখতেয়ার বা অধিকার
প্রত্যেকের আছে। ইহার নাম ধর্ম স্বাধীনতা। এই বিষয়ে তৌহিদে আদ্ইয়্যান প্রবন্দ্বে
আলোচনা আছে। ইহা বেলায়েতে মোতলাকার যুগোপযোগী ব্যবস্থা যাহা জনগণকে ধর্ম ঘৃণা
বিমুখ করে।
L তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে
মোতালাকা, আলহজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবারে গাউছুল আজম
মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত, ৮ম সংস্করণ, এপ্রিল ২০০১,পৃষ্টাঃ১২৯।
খন্ডন
https://www.facebook.com/islamicfreewill
আল্লাহ্র নিকট একমাত্র
ইসলাম ধর্মই গ্রহণযোগ্য। অতএব ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে থেকে মক্তি পাওয়া
যাবে না। এ ব্যপারে কুরআনে কারীম ইরশাদ হয়েছেঃ
“আল্লাহ্র কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হল ইসলাম”।
“আল্লাহ্র কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হল ইসলাম”।
(সূরাঃ৩ আল-ইমরানঃ১৯)
“কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য
কোন ধর্ম সন্দ্বান করলে কস্মিঙ্কালেও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এমন ব্যক্তি
পরকালে চির হতভাগাদের দলে থাকবে”।
(সূরাঃ৩ আল-ইমরানঃ৮৫)
মুসলিম শরীফের হাদিসে
বর্ণিত হয়েছেঃ
ঐ সত্তার কসম, যার হাতে
আমার জীবন, এই উম্মতের ইয়াহুদী, নাসারানী যে কেউ আমার কথা শুনবে অতঃপর আমাকে যা সহ
প্রেরণ করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান না এনে মৃতবরণ করবে, সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে।
এ হাদিসের ব্যাখ্যায়
ইমামা নববী বলেছেনঃ
এখনে ইয়াহুদ, নাস্রাদের
কথা উল্লেখ করা হয়েছে অন্যদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে। কেননা, ইয়াহুদ নাসারাদের
নিকট আসমানী কিতাব রয়েছে, এতদসত্ত্বেও তাদের যখন এই অবস্থা (যে, তাদের মুক্তিও শেষ
নবীকে মান্য করার উপর নির্ভরশীল) তখন অন্য যাদের নিকট আসমানী কিতাব নেই তাদের
অবস্থাতো অবশ্যই এমন হবে।
অন্য এক হাদিসে এসেছে
রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ
হযরত মূসা নবীও যদি
জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ না করে তাঁরও কোন উপায় থাকত না।
২. বিশেষ স্তরে শরী’আতের বিধান শিথিল হওয়ার
মতবাদ।
উক্ত “বেলায়েত মোতলাকা”
গ্রন্থে লেখা হয়েছেঃ
“শরীয়ত নাছূত বা
দৃশ্যমান জগতের অবস্থা সহিত সম্পর্কযুক্ত। এবং এই স্তরের লোকদের জন্য অবতীর্ণ”।
অতপর নিম্নোক্ত আয়াতের দিকে ইংগিত করে লেখ হয়েছে যে, “যদি কেহ বেকারার বা অস্থির
বা বাধ্য হয় তাঁহার জন্য এই হুকুম প্রযোজ্য নহে”। যাহা অবস্থাভেদে ব্যবস্থার
পরিপোষক বুঝা যায় এবং ইহা খোদার অনুগ্রহ ও ক্ষমার পর্যায়ভুক্ত।
L তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে মোতলাকা, আলহাজ্জ শাহ
সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবারে গাউসূল আজম মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত,
৮ম সংস্করণ, এপ্রিল-২০০১,পৃষ্টা:১৬।।
আয়াতটি এইঃ
আজ তোমাদের
জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ
করলাম আর ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।
(সূরাঃ৫-মায়িদাঃ৩)
উক্ত গ্রন্থে
“বিধান শিথিল অবস্থা” উপ-শিরোনামে আরও লেখা হয়েছেঃ
“ইসলামী
শরীয়াতী শিথিল আইন-কানূন মোয়ামেলাত শিথিল যুগে ইহা হুকুমতেরহুকুমের সঙ্গে যুক্ত
হইতে বাধ্য। এবাদতে মোতনাফিয়া আচরণে ছূফীয়ায়ে কেরামগণ গোঁড়া সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে
এবং উস্কানিদাতা মতলববাজ “আলেম” নামধারীলোকদের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করিতে না পারিয়া
বহুদিন পূর্ব হইতে মোশাহেদা, মোরাকাবা ইত্যাদি ভিন্ন পন্থাও অবলম্বন করিয়াছিলেন।
যেহেতু ত্বরীকত পন্থা শরীয়ত পন্থার পরবর্তী বিধার লাওয়ামা বা অনুতাপকারী স্তর হইতে
আরম্ভ হয়। তাই উপরোক্ত বহির্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের দৃষ্টি ভঙ্গির সঙ্গে ইহার
তফাথ দেখা যায়। এই কারণে জিকরে জবানীকে নাছূতী এবং জিক্রে কলবীকে মলকূতী বলা হয়।
তারপর “সূফী
ধ্যান-ধারণা” উপশিরোনামে লেখা হয়েছেঃ-
“সূফীয়ায়ে
কেরামগণ আত্মশুদ্ধকামী দ্বিতীয় স্তরের “লাওয়ামা” বা অনুতাপকারী চিন্তাশীল জনগণ হন
বিধায় তাহারা ত্বরীকত পন্থী। তাহার ইখতেলাফ পরিহার করেন; অলীয়ে কামেলের জ্ঞান
জ্যোতিঃ অনুসরণ করেন। বিধান ধর্মের উপর নৈতিক ধর্মের প্রাধান্য স্বীকার করেন এবং
এবাদত বা উপাসনার উপর “এতায়াত” বা আনুগত্যকে শ্রেষ্টত্ব প্রদান করেন, যাহা উপাসনার
উদ্দেশ্য”।
L তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে মোতলাকা,
আলহাজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবারে গাউসূল আজম
মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত, ৮ম সংস্করণ, এপ্রিল-২০০১,পৃষ্টা:১১৮
এসব কথার
দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, বিশেষ কামেল স্তরের ব্যক্তিবর্গের জন্য নামাজ, রোজা
ইত্যাদি বিধানশিথিল হয়ে যায়। বস্তুতঃ এ কারণেই অনেক ভাণ্ডারীকে বাতিনী নামাজের
নামে নামাজ থেকে বিরত থাকেন দেখা যায়।
তাদের উপরোক্ত
বক্তব্য থেকে তাদের আরও একটি মতবাদ আছে বলে প্রমাণিত হয়। তা হলঃ
৩. শরী’আত ও তরীকত ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার মতবাদ।
এই মতবাদের ভিত্তিতেই
মনে করা হয় যে, শরী’আত সাধারণ স্তরের মানুষের জন্য। কামেল স্তরের মানুষের জন্য
শরী’আতের বিধি-বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা থাকে না। শরী’আতে অনেক কিছু জরূরী যা
ত্বরীকতে জরূরী নয়। উল্লেখ্য সুরেশ্বরী পীর ও তার ও অনুসারীদের আকিদাও অনুরূপ যে,
শরী’আত ও তরীকত ভিন্ন ভিন্ন এবং কামেল ও বুযুর্গ হওয়ার পর তাদের আর ইবাদতের
প্রয়োজন থাকেনা।
ইবাদত করা আমরণ দায়িত্ব।
কোন স্তরেই এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাওয়া যায় না। এখন দেখা যাক কুরআন কি বলে--
“মৃত্যু পর্যন্ত তোমার
প্রতিপালকের ইবাদত কর”।
(সূরাঃ১৫-হিজরঃ৯৯)
(সূরাঃ১৫-হিজরঃ৯৯)
এ কথা সর্বজনবিদিত যে,
আম্বিয়া আলিহিমুস সালাম এবং সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে অধিক বিশ্বাস আর কারও হতে
পারেনা। তথাপি তাদের উপর আমরণ শরী;আত পালনের দায়িত্ব ছিল এবং তাঁরা আমরণ
ইবাদত-বন্দেগী পালন করে গিয়েছেন। হযরত ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে কোরআনে মাজীদে ইরশাদ
হয়েছে যে,
“সে বলল, আমি (ঈসা)
আল্লাহ্ ত’আলার দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখনেই
থাকি, আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায অযাকাত আদায়
করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
(সূরাঃ১৯-মারইয়ামঃ৩০)
মোটকথা আল্লাহ্র নবীর সমান ইয়াকীন-বিশ্বাস
অর্জন করা কোন উম্মতের পক্ষে সম্ভব নয়। তদুপরি নবীকে আজীবন শরী’আতের অনুসরণ করতে
বলা হয়েছে। সেখানে একজন উম্মত এই ক্ষমত ও স্বাধীনতা কোত্থেকে পেল।
সূফীকুল শিরোমনি হযরত
জুনাইদ বাগদাদী (রহঃ) কে কোন একজন লোক জিজ্ঞাসা করেছিল, কেউ কেউ বলে থাকে, আমরা তো
পৌছে গেছি। এখন আর আমাদের শরী;আতের অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ
“হ্যাঁ, তারা পৌছে গেছে, তবে জাহান্নামে”।
L তথ্যসূত্রঃ
তাসাউফঃ তত্ত্ব ও পর্যালোচনা, বরাত- শরহু হাদীছিল, ইলম, ইবনে রজব (রহঃ)-১৬,
সিরাতুল মুসতারশিদীনঃ৮৩ টিকা।।
৪. পীরের
মধ্যে খাদায়িত্ব আরোপ করার মতবাদ।
তারা তাদের বিভিন্ন
বইতে এমন সব কথা লিখেছেন যাতে বোঝা যায় তাদের ধারণা মতে পীরের মধ্যে আল্লাহ্র প্রকাশ
ঘটেছে। অর্থাৎ, তাদের পীর আল্লাহ্র প্রকাশ বা আল্লাহ্র অবতার। এমনকি স্বয়ং খোদা।
যেমন তারা বলেছেঃ
গাউছ বেশ ধৈরে ভবে
খেলিতেছে নিরঞ্জনে।
তানে ভাবে যেবা ভিন,
পাবে না সে প্রভূ চিন।
L তথ্যসূত্রঃ
রন্তভান্ডার,প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-২১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।
এই কবিতায়
মাইজভাণ্ডারীকে খোদার প্রকাশ হওয়ার দিকে ইংগিত করা হয়েছে। তারা আরও বলেছেঃ
“আগে কি জানিতাম আমি
তুমি হে জগৎ স্বামী
তোমা কৃপা গুনে সব
জীবের জীবন।
জান্তেম কি অরুন শশী
দেবমান স্বর্গবাসী।
তব গুণে গুণী তব নূরের
সৃজন
ছাপে ছিলে মানব ছলে
হাদী প্রেমে পর পৈলে
গাউছ বেশ ধরি কোথা
পালাবে এখন”।
L তথ্যসূত্রঃ
রন্তভাণ্ডার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্টা-১১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ,
১৯৯৭।।
এ কবিতায়
মাইজভাণ্ডারীকে খোদার প্রকাশ হয়ায়র সাথে সাথা তার খোদা হওয়ার দিকে ইংগিত করা
হয়েছে। এ ধারনা কুফরী।
আরও বলা হয়েছেঃ
সে আজলী সে আবদী সে
এবতেদা,সে এন্তেহা।
সে আওয়ালে সে আখেরে সে
জাহেরে সে বাতেনে।
L তথ্যসূত্রঃ
প্রাগুক্ত,প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-২১
আরও বলা হয়েছেঃ
আউয়ালে আখের তুমি
জাহের বাতেন তুমি।
তুমি হে নূরের ছটা
সারা ভূবন মোহন।।
অহে কর্ত্তা জগরক্ষা
ভিক্ষুকের দেও ভিক্ষা
কর হাদীর প্রান রক্ষা
প্রিয়া গাউছ ধন।।
L তথ্যসূত্রঃ
রন্তভাণ্ডার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্টা-১১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ,
১৯৯৭।।
এসব কবিতায় খোদার জন্য
যে সব সিফাত প্রযোজ্য সে সব মাইজভাণ্ডারীর জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে । এভাবে তাকে
খোদার স্তরে পৌছে দেয়া হয়েছে, যাচরম গোমরাহী।
আরও বলা হয়েছেঃ
“আহমদে বেমিম তুঝে
কাহতা হোঁ অয়াল্লাহ।
মিমকি পর্দ্দা কো মের
ভিতু উঠা দাও”।।
L তথ্যসূত্রঃ
প্রাগুক্ত, প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-২
এ কবিতায় পরিষ্কার বলা
হয়েছে যে, আল্লাহ হলেন আহাদ। আর মাইজভাণ্ডারী হলেন আহমদ। এই আহাদ ও আহমদের মদ্যে
পার্থক্য কেবল একটা মীম হরফের। ন্তুবা আল্লাহ ও মাইজভান্ডারীর মধ্যে কোন পার্থক্য
নেই।
৫. হায়াত-মওতের ব্যাপারে পীর নিয়ন্ত্রণঃ
মাইজভাণ্ডারীগণ মনে করেন তাদের পীরের মদ্যে
মানুষের হায়াত-মওতের ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রয়েছে। জীবনী ও কেরামত গ্রন্থে “হযরতের
বেলায়তী ক্ষমতায় আজরাঈল হইতে রক্ষা ও মৃত্যু
সময় পরবর্তন” শিরোনামে মাইজভাণ্ডারী সাহেবের জনঙ্ক ভক্ত মৌলভী আব্দুল গনি
সাহেব সম্পর্কে লেখা হয়েছে যে, তিনি একবার অসুস্থ হওয়ার পর একদিন হঠাৎ বেহুশ হয়ে
পড়লে দেখতে পান যে, আজরাঈল কদাকার ভীষণ আকৃতিতে একখানা অসি নিয়ে তার বুকের উপর বসে
তার গলায় চালাতে উদ্যত। এমনি সময় গাউছুল আজম (মাইজভাণ্ডারী সাহেব) সেখানে হাজির
হলেন। তিনি তার অসি ছিনিয়ে নিলেন এবং তাকে বললেনঃ
“তুমি এখনি ফিরিয়ে যাও। আমি তাহাকে এক সপ্তাহের সময় দিলাম। তাহার সাথে আমার
দরকারী কাজ আছে। তখন আজরাঈল হযরতকে কিছু বলিতে চাহিলে, তিনি অতিশ্য নারাজ ও জালাল
হইয়া বলিয়া উঠিলেনঃ এখনই যাও। তোমার খোদাকে আমার কথা বলিও। আমি সম্য দিয়াছি”। তখন
আজরাঈল চলিয়া গেল। তিনি সংজ্ঞা প্রাপ্ত হইয়া ধীরে ধীরে প্রায় সুস্থ হইয়া উঠিলেন।
L তথ্যসূত্রঃ
মাইজভাণ্ডারীর জীবনী ও কেরামত, সংকলন সংগ্রাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার
হোসাইন (মাইজভাণ্ডারী), পঞ্চদশ প্রকাশঃ জুলাই-২০০২, পৃষ্টা-১২৯।।
পীর সম্বন্দ্বে এমন আকীদা হায়াত মওত
সম্পর্কিত আকীদার পরিপন্থী। তদুপরি কোন মানুষ আল্লাহ্ ও ফেরেশতার উপর এমন মাতবরী
দেখতে পারে তা বিশ্বাস করা ঈমান বিরোধী।
উল্লেখ্যঃ এ শ্রেণীর লোকেরা পীরকে খোদার
স্তরে দিয়েছে। তার পীরের মধ্যে খোদায়ী গুণ আরোপ করেছে। পীরের হাতে থাকা ইত্যাদি
খোদায়ী গুণ থাকাকে সাব্যস্ত করেছে। পূর্বে আমারা উল্লেখ করেছি-যারা আল্লাহ্র
প্রবেশ করার মওত পোষণ করেন, বা পীর মাশায়েখকে খোদার স্তরে পৌছে দেয়, পীরকে খোদার
প্রকাশ বলে, বা পীরের মধ্যে খোদায়ী গুণ আরোপ করে, তারা এ বিষয়ে সাধারণতঃ
“সর্বেশ্বরবাদ” দর্শনের অপব্যাখ্যার আশ্র্য নিয়ে এটা করে থাকেন।
৬. পীর কর্তৃক পরকালে
মুক্তি পাওয়ার মতবাদ।
মাইজভাণ্ডারীদের
মতবাদ হল পীর মৃত্যুকালে কষ্ট থেকে মুক্তি দিবেন, কবরে আরামের ব্যবস্থা করবেন,
হাশরে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন। আমলে ত্রুটি থাকলে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করবেন।
যেমন বলা হয়েছেঃ
“দাসগনের প্রাণ হরিতে-ভয় নাহি দূত
সমনে।
ফুল দেখাই প্রাণ হরিবে-নিজ হাতে
গাউছ ধন।
মনকির নকিরের ডর-কবরে নাহিক মোর।
আদবের চাবুক মেরে হাঁকাইবেন গাউছ ধন।
কবর কোশাদা হবে-পুষ্পসয্যা
বিছাইবে।
সামনে বসি হালকা বন্দি-করাইবেন গাউছ ধনে
হীন দাস হাদী কয়- হাশরেতে নাহি ভয়।
পিছে পিছে দাসগণ ফিরাইবেন গাউছ ধন”।
L তথ্যসূত্রঃ
রত্নভাণ্ডার, প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-১৭, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ-১৯৯৭।।
অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
“গাউছজি, মাওলাজি ডাকছি তোমারে
নাছুতী সঙ্কটে উদ্ধারিত মোরে
দিন দুনিয়ার ছোওয়াব গুনা…….
মিজানের পাল্লাখান,
পোলছেরাতের ভাবাগোনা
রেহাই দেও মোরে”।
L তথ্যসূত্রঃ
রন্তভাণ্ডার, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্টা-২৭, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ,
১৯৯৭।।
৭. পীর কর্তৃক কামনা-
বাসনা পূরণ হওয়ার মতবাদ।
এ প্রসঙ্গে তাদের নিম্নোক্ত কবিতাটি তুলে
ধরা যায়ঃ
“ভাণ্ডারীকে যে পাইল-খোদা রসূল সে
চিনিল
গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী পূর্ণ করেন
বাসনা”।
L তথ্যসূত্রঃ
রন্তভাণ্ডার, প্রথম খন্ড, পৃষ্টা-৩৩, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।
৮. গান-বাদ্য জায়েয হওয়ার
মতবাদ।
তারা লিখেছেনঃ “যাহারা ছেমায় আসক্ত, ছেমা বা
গান বাদ্য জনিত জিকির বা জিকরী মাহফিল করিতে চাহেন তাহাদের জন্য বাদ্যযন্ত্র
সহকারে জিকির বা জিকরী মাহফিল করিবার অনুমতি ও আনুমোদন আছে”।
L তথ্যসূত্রঃ
“মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লেদে গাউছিয়া’ মাইজভাণ্ডারীর দ্বিতীয় পীর – শাহ সূফী সৈয়দ
দেলাওয়ার হোসাইন কর্তৃক সম্পাদিত, ১১শ সংস্করণ, জুন-২০০২,পৃষ্টা-৪।
গান-বাদ্য হারাম ও নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল
কুরআন থেকে দলীলঃ
১.কুরআনে কারীমে আল্লহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
“আর কতক লোক এমন
রয়েছে যারা অজ্ঞতা বশতঃ মানুষ কে আল্লাহ্র পথ থেকে ভ্রষ্ট বা ভ্রান্ত করার জন্য
গান-বাদ্যকে ক্রয়/অব্লম্বন করে”।
(সূরাঃ৩১-লুকামানঃ৬)
(সূরাঃ৩১-লুকামানঃ৬)
২. অন্য স্থানে আল্লাহ্
ইরশাদ করেছেনঃ
আল্লাহ্ তা’আলা শয়তাঙ্কে লক্ষ্য করে
বলেছিলেন, “তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস “তোর আওয়াজ” দ্বারা সত্যচ্যুত কর”।
(সূরাঃ১৭-বনী
ইসরাঈলঃ৬৪)
বিশিষ্ট তাফসীর
কারক আল্লামা মুজাহিদ (রহঃ) “শয়তানের আওয়াজ”-এর ব্যাখ্যা করেছেন গান-বাদ্য ও
অনর্থক ক্রিড়া-কৌতুক দ্বারা। সুতরাং যে গান-বাদ্য শয়তানের আওয়াজ তা কক্ষনো শরী’আতে
বৈদ হতে পারেনা।
ইসলামী আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ । কিতাব থেকে মনে হয় উঠানো হয়েছে।
ReplyDeleteঅনেক সুন্দর । খুব ভাল লাগলো।
ReplyDelete