www.facebook.com/islamicfreewill
তাবলীগী নিসাব ফাযায়েলে আমালের কতিপয় ঘটনা এবং হায়াতুন নবী সাঃ
প্রসঙ্গ
তাবলীগী
নেসাব ফাযায়েলে আমাল বইয়ের এই কথাগুলোকে অনেকে শিরক বলেন। আপনার মতামত কী?
১)“ক্ষুধার্থ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে খাদ্যের আবেদন করে ঘুমিয়ে পড়লেন।
সেই অবস্থায় তার নিকট রুটি আসল, ঘুমন্ত অবস্থায় ঐ
ব্যক্তি অর্ধেক রুটি খাওয়ার পর জাগ্রত হয়ে বাকী অর্ধেক রুটি খেলেন।” ফাযায়েলে হ্জ্জ, পৃ:১৫৫-১৫৬।
২) জনৈক মহিলা ত জন খাদেম
কর্তৃক মার খাওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে
গিয়ে বিচার প্রার্থনা করলে, আওয়াজ আসল ধৈর্য ধর, ফল পাবে। এর পরেই অত্যাচারী খাদেমগণ মারা গেল। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৫৯।
৩) অর্থাভাবে বিপন্ন এক
ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে হাজির
হয়ে সাহায্যের প্রার্থনা করায় তা কবুল হল। লোকটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল
যে, তার হাতে অনেকগুলো দিরহাম। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৬২-৬৩।
৪) মদীনার মসজিদে আযান
দেয়া অবস্থায় এক খাদেম মুয়াজ্জেমকে প্রহার করায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করল। প্রার্থনার
তিনদিন পরই ঐ খাদেম মরা গেল। ফাযায়েলে হ্জ্জ,
পৃ:১৬২-৬৩।
৫) জনৈক অসুস্থ ব্যক্তি
চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়ায় ঐ ব্যক্তির আত্মীয় (করডোভার এক মন্ত্রী) রোগ্যের আবেদন
করে হুজুরের (সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কবরে পাঠ কার জন্য অসুস্থ
ব্যক্তিকে পত্রসহ মদীনায় প্রেরণ করে। কবরের পার্শ্বে পত্র পাঠ করার পরেই রোগীর
আরোগ্য লাভ হয়ে যায়। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৬৭।
৬) কোন ব্যক্তি হুজুরের
রওজায় আরজ করায় রওজা হতে হুজুরের হস্ত মোবারক বের হয়ে আসলে উহা চুম্বন করে সে
ধন্য হল। নব্বই হাজার লোক উহা দেখতে পেল।
জবাব
بسم الله
الرحمن الرحيم
উল্লেখিত ঘটনা এবং এছাড়া
নবীজী সাঃ এর দরবারে আবেদন করা বিভিন্ন ঘটনা কথিত আহলে হাদীস গোষ্ঠির অস্বিকার করা
এবং শিরক বলার মূল কারণ হল একটি আক্বিদার ক্ষেত্রে তাদের ভ্রান্ত ধারণা। সেই
ভ্রান্ত আক্বিদা হল-নবীজী সাঃ রওজায়ে আতহারে মৃত। জীবিত নয়। কিন্তু আমাদের আহলে
সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল নবীজী সাঃ কবরে জীবিত। তবে দুনিয়াবী জীবনের মত
নয়। তথা পানাহার করা, চলাফেরা করা ইত্যাদি করার
ক্ষমতা নেই। বরং জীবিত থাকার অনেক বৈশিষ্ট তাদের মাঝে রয়েছে, যেমন-সালাম দিলে তা শ্রবণ করেন। রওজার সামনে দুরুদ পড়লে তা শুনতে
পান। আর দূর থেকে দুরুদ পড়লে ফেরেস্তাদের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছলে তা তিনি জানতে
পারেন। কবরে তিনি ইবাদতে নিমগ্ন আছেন। এ জীবনটা হল কবরের জগতে বিশেষ জীবন।
দুনিয়াবী জীবন থেকে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন একথা মানা আবশ্যক। কিন্তু কবরের জীবনে
তিনি বিশেষ জীবিত। যেমন শহীদরা বিশেষ অবস্থায় জীবিত। যে জীবন দুনিয়াবী জীবনের মত
নয়।
এ হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা। আর ওদের আক্বিদা হল-নবীগণ কবরে একদম মৃত। জীবিত মানুষের কোন বৈশিষ্টই তাদের মাঝে নেই।
এ আক্বিদার ভ্রান্তিতার কারণে ওরা নবীজী সাঃ এর কবরের সামনে কথা বলা বা কিছু আবেদন করাকে শিরক বলে থাকে। যা উপরে উল্লেখিত সকল ঘটনায় স্পষ্ট।
সুতরাং আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি যে, রাসূল সাঃ কবরে বিশেষ অবস্থায় জীবিত আছেন, তাই উল্লেখিত ব্যক্তিদের নবীজী সাঃ এর রওজায় গিয়ে এমন কোন কিছু চাওয়া, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায়, তা চাওয়াতে শিরক হয়নি। তবে এমন কোন বিষয় যদি চাওয়া হতো, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায় না, সেসব বস্তু চাইলে তা শিরকী কথা হতো। অথচ এরকম কোন বস্তু উক্ত ঘটনাবলীতে চাওয়া হয়নি, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া জায়েজ নয়। যেমন-সন্তান চাওয়া ইত্যাদি।
উল্লেখিত ঘটনার দু’ একটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দু’একটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়। সুতরাং রাসূল সাঃ যেহেতু কবরে বিশেষ হালাতে জীবিত, তাই তার কবরে গিয়ে এসব চাওয়াটাও শিরক হয়নি। কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে। যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে।
এ হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা। আর ওদের আক্বিদা হল-নবীগণ কবরে একদম মৃত। জীবিত মানুষের কোন বৈশিষ্টই তাদের মাঝে নেই।
এ আক্বিদার ভ্রান্তিতার কারণে ওরা নবীজী সাঃ এর কবরের সামনে কথা বলা বা কিছু আবেদন করাকে শিরক বলে থাকে। যা উপরে উল্লেখিত সকল ঘটনায় স্পষ্ট।
সুতরাং আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি যে, রাসূল সাঃ কবরে বিশেষ অবস্থায় জীবিত আছেন, তাই উল্লেখিত ব্যক্তিদের নবীজী সাঃ এর রওজায় গিয়ে এমন কোন কিছু চাওয়া, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায়, তা চাওয়াতে শিরক হয়নি। তবে এমন কোন বিষয় যদি চাওয়া হতো, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায় না, সেসব বস্তু চাইলে তা শিরকী কথা হতো। অথচ এরকম কোন বস্তু উক্ত ঘটনাবলীতে চাওয়া হয়নি, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া জায়েজ নয়। যেমন-সন্তান চাওয়া ইত্যাদি।
উল্লেখিত ঘটনার দু’ একটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দু’একটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়। সুতরাং রাসূল সাঃ যেহেতু কবরে বিশেষ হালাতে জীবিত, তাই তার কবরে গিয়ে এসব চাওয়াটাও শিরক হয়নি। কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে। যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে।
নবীজী সাঃ এর কবরের জগতে
বিশেষ হালাতে জীবিত থাকার এসব সুষ্পষ্ট প্রমাণবাহী ঘটনাকে কথিত আহলে হাদীস গোষ্ঠি
নিতান্তই ঘারত্যামী করে অস্বিকার করছে। আর শিরকের অপবাদ আরোপ করছে এসব
আল্লাহওয়ালা বুযুর্গদের উপর।
বিঃদ্রঃ নবীজী সাঃ এর কবরে এভাবে চাওয়াটা ঠিক নয়। কেননা এতে
বাহ্যিকভাবে মানুষের মাঝে এ সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে যে, নবীজী সাঃ ও আল্লাহর মত সব কিছু করতে পারেন। তাই এভাবে চাওয়া থেকে
বিরত থাকতে হবে। তবে কেউ যদি নবীর প্রেমে পাগল হয়ে এমনটি করে তাহলে তা ভিন্ন
ব্যাপার। কারণ পাগলের উপর কোন বিধান নেই। যেমনটি ঘটেছে উক্ত বর্ণিত ঘটনাবলীতে।
নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার প্রমাণ
১-
وَلاَ
تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن
لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154)
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।
২-
عَن أَنَس ؛
أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند
البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888)
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}
৩-
عن أبي الدرداء
قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه
مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها )
قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد
الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم
الحديث-1637)
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ
করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com
lutforfarazi@yahoo.com
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com
lutforfarazi@yahoo.com
লা-মাযহাবী
ভাইরা সচারচর খুব জোশের সাথে প্রচার করে থাকেন,
"ফাযায়েলে আমলের মধ্যে শিরকী কথা আছে"
প্রথমে আমরা লা-মাযহাবী ভাইদের খুব প্রিয় ও প্রচারিত একটি সাইটের স্কিন শট দেখি,
কুরআনের আলো
এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওনারা কিতাবুর রূহ থেকে কিছু রেফারেন্স দিয়েছেন।
এই কিতাবটি লিখেছেন ইবনুল কাইয়ূম রহ. । যাকে আবার তারা খুবই মান্য করে থাকেন এবং যার কথা প্রায়ই লা-মাযহাবী ভাইরা রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
(যদিও তারা দাবি করে থাকেন তারা কুরআন ও হাদীস বাদের কিছুই মানেন না !!!
মানার বেলায় ঠিকই মানেন শুধু আমরা আবু হানিফা রহ.-এর কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষন মানলেই দোষ!!!)
যাই হোক।
আমরা এখন ইবনুল কাইয়ুম রহ.-এর লিখিত কিতাবুর রূহ থেকে কিছু ঘটনা পড়ি যা কিনা ইবনুল কাইয়ুম রহ. তার কিতাবুর রহ. কিতাবে উল্লেখ করেছেন ....
১)আবুত তাইয়াহ(রহ) বর্ণনা করেন,মুতাররাফ (রহ) প্রতিদিন প্রত্যুষে কবর যিয়ারাত করতেন। কিন্তু শুক্রবার রজনীর একাংশ অতিবাহিত হওয়ার পর অন্ধকারে কবর যিয়ারাত করতেন। বলা হয় যে, তাঁর চাবুকটি রাতের আঁধারে জ্বল-জ্বল করত। একরাতে তিনি ঘোড়ায় আরোহণ করে গোরস্তানে পৌঁছে দেখতে পেলেন,প্রত্যেক কবরবাসী স্ব স্ব কবরে উপবিষ্ট। তাঁকে দেখে সবাই সমস্বরে বলে উঠল,ইনি মুতররাফ যিনি প্রতি শুক্রবার আমাদের কাছে আসেন। আমি (বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করলাম,তোমরাও কি শুক্রবার সম্পর্কে জানতে পার? তারা বলল,হ্যাঁ, ঐ দিন পাখিরা যাকিছু বলে,তাও শুনতে পাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, পাখিরা কি বলে? তারা বলল, পাখিরা বলেঃ সালাম,সালাম। (কিতাবুর রূহ, পৃঃ ৩)
২)শাবীব ইবনে শাইবা বলেন, মৃত্যুর সময় আমার মাতা অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, দাফন করার পর আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বল্বেঃ হে উম্মে শাবীব! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়। তিনি বলেন,অতএব দাফন করার পর আমি তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার অন্তিম ওসিয়ত পূর্ণ করলাম। রাতে তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম- তিনি বলছেন, বতস! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যদি আমাকে রক্ষা না করত, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম। শাবাশ বেটা! তুমি অসিয়ত স্মরণ রেখছ। (কিতাবুর রূহ, পৃঃ ১৫)
৩)রাজা ইবনে হায়াতের মৃত্যুর পর এক পুণ্যবতী মহিলা তাকে স্বপ্নে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রত্যাবর্তন কিসের দিকে হয়েছে? তিনি জবাব দিলেন,মঙ্গলের দিকে। কিন্তু মরণের পর আমি হতভম্ভ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ধারণা করেছিলাম যে, কিয়ামত এসে গেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? রাজা জবাব দিলেন,জাররাহ এবং তার সাথী সমস্ত সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন। ফলে জান্নাতের দরজায় ভীড় হয়ে গিয়েছিল। ((কিতাবুর রূহ, পৃঃ ২৯)
৪)আলী ইবনে আবি তালিব কাইরুয়ানী বলেনঃ ওমায়েরের স্বপ্নের ঘটনা ততটুকু বিস্ময়কর নয়,যতটুকু বিস্ময়কর আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহর ঘটনা। যা আমরা শহরে স্বচক্ষে দেখেছি। আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি স্বপনের মাধ্যমে মৃতব্যাক্তির গোপনীয় কথা জেনে ফেওলতেন এবং আত্মীয়স্বজনদের বলে দিতেন। এ ব্যাপারে তিনি কামালিয়াত বা পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন,ফলে অল্প দিনেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করলেন।((কিতাবুর রূহ, পৃঃ ৪৯)
এখন লা-মাযহাবী ভাইদের কাছে প্রশ্ন ফাযায়েলে আমলের ঘটনাগুলো (যদিও সেখানে রেফারেন্সসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে) শিরকী ঘটনা হয়,
তবে ইবনুল কাইয়ুম রহ.-এর লিখিত কিতাবুর রূহ কিতাবের ঘটনাগুলো কেন শিরকী কথা হবে না ???
কেন তারপরও তিনি আপনাদের কাছে গ্রহনযোগ্য আলেম ???
এবং তার কথাগুলো যদি গ্রহনযোগ্য হয় তবে কেন ফাযায়েলে আমলের ঘটনাগুলো গ্রহনযোগ্য হবে না ???
"ফাযায়েলে আমালের মধ্যে যদি শিরকী কথা থাকে তবে এগুলো কেন শিরকী কথা হবে না ???"
আশা করি জবাবগুলো দিয়ে বাধিত করবে"ফাযায়েলে আমলের মধ্যে শিরকী কথা আছে"
প্রথমে আমরা লা-মাযহাবী ভাইদের খুব প্রিয় ও প্রচারিত একটি সাইটের স্কিন শট দেখি,
কুরআনের আলো
এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওনারা কিতাবুর রূহ থেকে কিছু রেফারেন্স দিয়েছেন।
এই কিতাবটি লিখেছেন ইবনুল কাইয়ূম রহ. । যাকে আবার তারা খুবই মান্য করে থাকেন এবং যার কথা প্রায়ই লা-মাযহাবী ভাইরা রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
(যদিও তারা দাবি করে থাকেন তারা কুরআন ও হাদীস বাদের কিছুই মানেন না !!!
মানার বেলায় ঠিকই মানেন শুধু আমরা আবু হানিফা রহ.-এর কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষন মানলেই দোষ!!!)
যাই হোক।
আমরা এখন ইবনুল কাইয়ুম রহ.-এর লিখিত কিতাবুর রূহ থেকে কিছু ঘটনা পড়ি যা কিনা ইবনুল কাইয়ুম রহ. তার কিতাবুর রহ. কিতাবে উল্লেখ করেছেন ....
১)আবুত তাইয়াহ(রহ) বর্ণনা করেন,মুতাররাফ (রহ) প্রতিদিন প্রত্যুষে কবর যিয়ারাত করতেন। কিন্তু শুক্রবার রজনীর একাংশ অতিবাহিত হওয়ার পর অন্ধকারে কবর যিয়ারাত করতেন। বলা হয় যে, তাঁর চাবুকটি রাতের আঁধারে জ্বল-জ্বল করত। একরাতে তিনি ঘোড়ায় আরোহণ করে গোরস্তানে পৌঁছে দেখতে পেলেন,প্রত্যেক কবরবাসী স্ব স্ব কবরে উপবিষ্ট। তাঁকে দেখে সবাই সমস্বরে বলে উঠল,ইনি মুতররাফ যিনি প্রতি শুক্রবার আমাদের কাছে আসেন। আমি (বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করলাম,তোমরাও কি শুক্রবার সম্পর্কে জানতে পার? তারা বলল,হ্যাঁ, ঐ দিন পাখিরা যাকিছু বলে,তাও শুনতে পাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, পাখিরা কি বলে? তারা বলল, পাখিরা বলেঃ সালাম,সালাম। (কিতাবুর রূহ, পৃঃ ৩)
২)শাবীব ইবনে শাইবা বলেন, মৃত্যুর সময় আমার মাতা অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, দাফন করার পর আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বল্বেঃ হে উম্মে শাবীব! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়। তিনি বলেন,অতএব দাফন করার পর আমি তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার অন্তিম ওসিয়ত পূর্ণ করলাম। রাতে তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম- তিনি বলছেন, বতস! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যদি আমাকে রক্ষা না করত, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম। শাবাশ বেটা! তুমি অসিয়ত স্মরণ রেখছ। (কিতাবুর রূহ, পৃঃ ১৫)
৩)রাজা ইবনে হায়াতের মৃত্যুর পর এক পুণ্যবতী মহিলা তাকে স্বপ্নে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রত্যাবর্তন কিসের দিকে হয়েছে? তিনি জবাব দিলেন,মঙ্গলের দিকে। কিন্তু মরণের পর আমি হতভম্ভ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ধারণা করেছিলাম যে, কিয়ামত এসে গেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? রাজা জবাব দিলেন,জাররাহ এবং তার সাথী সমস্ত সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন। ফলে জান্নাতের দরজায় ভীড় হয়ে গিয়েছিল। ((কিতাবুর রূহ, পৃঃ ২৯)
৪)আলী ইবনে আবি তালিব কাইরুয়ানী বলেনঃ ওমায়েরের স্বপ্নের ঘটনা ততটুকু বিস্ময়কর নয়,যতটুকু বিস্ময়কর আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহর ঘটনা। যা আমরা শহরে স্বচক্ষে দেখেছি। আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি স্বপনের মাধ্যমে মৃতব্যাক্তির গোপনীয় কথা জেনে ফেওলতেন এবং আত্মীয়স্বজনদের বলে দিতেন। এ ব্যাপারে তিনি কামালিয়াত বা পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন,ফলে অল্প দিনেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করলেন।((কিতাবুর রূহ, পৃঃ ৪৯)
এখন লা-মাযহাবী ভাইদের কাছে প্রশ্ন ফাযায়েলে আমলের ঘটনাগুলো (যদিও সেখানে রেফারেন্সসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে) শিরকী ঘটনা হয়,
তবে ইবনুল কাইয়ুম রহ.-এর লিখিত কিতাবুর রূহ কিতাবের ঘটনাগুলো কেন শিরকী কথা হবে না ???
কেন তারপরও তিনি আপনাদের কাছে গ্রহনযোগ্য আলেম ???
এবং তার কথাগুলো যদি গ্রহনযোগ্য হয় তবে কেন ফাযায়েলে আমলের ঘটনাগুলো গ্রহনযোগ্য হবে না ???
"ফাযায়েলে আমালের মধ্যে যদি শিরকী কথা থাকে তবে এগুলো কেন শিরকী কথা হবে না ???"
www.facebook.com/islamicfreewill


