Friday, June 14, 2013


www.facebook.com/islamicfreewill


তাবলীগী নিসাব ফাযায়েলে আমালের কতিপয় ঘটনা এবং হায়াতুন নবী সাঃ প্রসঙ্গ

 


তাবলীগী নেসাব ফাযায়েলে আমাল বইয়ের এই কথাগুলোকে অনেকে শিরক বলেন। আপনার মতামত কী?


১)ক্ষুধার্থ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে খাদ্যের আবেদন করে ঘুমিয়ে পড়লেন। সেই অবস্থায় তার নিকট রুটি আসল, ঘুমন্ত অবস্থায় ঐ ব্যক্তি অর্ধেক রুটি খাওয়ার পর জাগ্রত হয়ে বাকী অর্ধেক রুটি খেলেন।ফাযায়েলে হ্‌জ্জ, পৃ:১৫৫-১৫৬।
২) জনৈক মহিলা ত জন খাদেম কর্তৃক মার খাওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করলে, আওয়াজ আসল ধৈর্য ধর, ফল পাবে। এর পরেই অত্যাচারী খাদেমগণ মারা গেল। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৫৯।
৩) অর্থাভাবে বিপন্ন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে হাজির হয়ে সাহায্যের প্রার্থনা করায় তা কবুল হল। লোকটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল যে, তার হাতে অনেকগুলো দিরহাম। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৬২-৬৩।
৪) মদীনার মসজিদে আযান দেয়া অবস্থায় এক খাদেম মুয়াজ্জেমকে প্রহার করায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করল। প্রার্থনার তিনদিন পরই ঐ খাদেম মরা গেল। ফাযায়েলে হ্‌জ্জ, পৃ:১৬২-৬৩।
৫) জনৈক অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়ায় ঐ ব্যক্তির আত্মীয় (করডোভার এক মন্ত্রী) রোগ্যের আবেদন করে হুজুরের (সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কবরে পাঠ কার জন্য অসুস্থ ব্যক্তিকে পত্রসহ মদীনায় প্রেরণ করে। কবরের পার্শ্বে পত্র পাঠ করার পরেই রোগীর আরোগ্য লাভ হয়ে যায়। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৬৭।
৬) কোন ব্যক্তি হুজুরের রওজায় আরজ করায় রওজা হতে হুজুরের হস্ত মোবারক বের হয়ে আসলে উহা চুম্বন করে সে ধন্য হল। নব্বই হাজার লোক উহা দেখতে পেল।
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم
উল্লেখিত ঘটনা এবং এছাড়া নবীজী সাঃ এর দরবারে আবেদন করা বিভিন্ন ঘটনা কথিত আহলে হাদীস গোষ্ঠির অস্বিকার করা এবং শিরক বলার মূল কারণ হল একটি আক্বিদার ক্ষেত্রে তাদের ভ্রান্ত ধারণা। সেই ভ্রান্ত আক্বিদা হল-নবীজী সাঃ রওজায়ে আতহারে মৃত। জীবিত নয়। কিন্তু আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল নবীজী সাঃ কবরে জীবিত। তবে দুনিয়াবী জীবনের মত নয়। তথা পানাহার করা, চলাফেরা করা ইত্যাদি করার ক্ষমতা নেই। বরং জীবিত থাকার অনেক বৈশিষ্ট তাদের মাঝে রয়েছে, যেমন-সালাম দিলে তা শ্রবণ করেন। রওজার সামনে দুরুদ পড়লে তা শুনতে পান। আর দূর থেকে দুরুদ পড়লে ফেরেস্তাদের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছলে তা তিনি জানতে পারেন। কবরে তিনি ইবাদতে নিমগ্ন আছেন। এ জীবনটা হল কবরের জগতে বিশেষ জীবন। দুনিয়াবী জীবন থেকে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন একথা মানা আবশ্যক। কিন্তু কবরের জীবনে তিনি বিশেষ জীবিত। যেমন শহীদরা বিশেষ অবস্থায় জীবিত। যে জীবন দুনিয়াবী জীবনের মত নয়।
এ হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা। আর ওদের আক্বিদা হল-নবীগণ কবরে একদম মৃত। জীবিত মানুষের কোন বৈশিষ্টই তাদের মাঝে নেই।
এ আক্বিদার ভ্রান্তিতার কারণে ওরা নবীজী সাঃ এর কবরের সামনে কথা বলা বা কিছু আবেদন করাকে শিরক বলে থাকে। যা উপরে উল্লেখিত সকল ঘটনায় স্পষ্ট।
সুতরাং আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি যে, রাসূল সাঃ কবরে বিশেষ অবস্থায় জীবিত আছেন, তাই উল্লেখিত ব্যক্তিদের নবীজী সাঃ এর রওজায় গিয়ে এমন কোন কিছু চাওয়া, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায়, তা চাওয়াতে শিরক হয়নি। তবে এমন কোন বিষয় যদি চাওয়া হতো, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায় না, সেসব বস্তু চাইলে তা শিরকী কথা হতো। অথচ এরকম কোন বস্তু উক্ত ঘটনাবলীতে চাওয়া হয়নি, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া জায়েজ নয়। যেমন-সন্তান চাওয়া ইত্যাদি।
উল্লেখিত ঘটনার দুএকটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দুএকটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়। সুতরাং রাসূল সাঃ যেহেতু কবরে বিশেষ হালাতে জীবিত, তাই তার কবরে গিয়ে এসব চাওয়াটাও শিরক হয়নি। কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে। যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে।
নবীজী সাঃ এর কবরের জগতে বিশেষ হালাতে জীবিত থাকার এসব সুষ্পষ্ট প্রমাণবাহী ঘটনাকে কথিত আহলে হাদীস গোষ্ঠি নিতান্তই ঘারত্যামী করে অস্বিকার করছে। আর শিরকের অপবাদ আরোপ করছে এসব আল্লাহওয়ালা বুযুর্গদের উপর।
বিঃদ্রঃ নবীজী সাঃ এর কবরে এভাবে চাওয়াটা ঠিক নয়। কেননা এতে বাহ্যিকভাবে মানুষের মাঝে এ সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে যে, নবীজী সাঃ ও আল্লাহর মত সব কিছু করতে পারেন। তাই এভাবে চাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে কেউ যদি নবীর প্রেমে পাগল হয়ে এমনটি করে তাহলে তা ভিন্ন ব্যাপার। কারণ পাগলের উপর কোন বিধান নেই। যেমনটি ঘটেছে উক্ত বর্ণিত ঘটনাবলীতে।
নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার প্রমাণ
১-
وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154)
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।
২-
عَن أَنَس ؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888)
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}
৩-
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com
lutforfarazi@yahoo.com

লা-মাযহাবী ভাইরা সচারচর খুব জোশের সাথে প্রচার করে থাকেন,
"ফাযায়েলে আমলের মধ্যে শিরকী কথা আছে"
‍‍ ‍
প্রথমে আমরা লা-মাযহাবী ভাইদের খুব প্রিয় ও প্রচারিত একটি সাইটের স্কিন শট দেখি,
কুরআনের আলো

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওনারা কিতাবুর রূহ থেকে কিছু রেফারেন্স দিয়েছেন।

এই কিতাবটি লিখেছেন ইবনুল কাইয়ূম রহ. । যাকে আবার তারা খুবই মান্য করে থাকেন এবং যার কথা প্রায়ই লা-মাযহাবী ভাইরা রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
(যদিও তারা দাবি করে থাকেন তারা কুরআন ও হাদীস বাদের কিছুই মানেন না !!!
মানার বেলায় ঠিকই মানেন শুধু আমরা আবু হানিফা রহ.-এর কুরআন ও হাদীসের বিশ্লেষন মানলেই দোষ!!!)

যাই হোক।
আমরা এখন ইবনুল কাইয়ুম রহ.-এর লিখিত কিতাবুর রূহ থেকে কিছু ঘটনা পড়ি যা কিনা ইবনুল কাইয়ুম রহ. তার কিতাবুর রহ. কিতাবে উল্লেখ করেছেন ....

১)আবুত তাইয়াহ(রহ) বর্ণনা করেন,মুতাররাফ (রহ) প্রতিদিন প্রত্যুষে কবর যিয়ারাত করতেন। কিন্তু শুক্রবার রজনীর একাংশ অতিবাহিত হওয়ার পর অন্ধকারে কবর যিয়ারাত করতেন। বলা হয় যে, তাঁর চাবুকটি রাতের আঁধারে জ্বল-জ্বল করত। একরাতে তিনি ঘোড়ায় আরোহণ করে গোরস্তানে পৌঁছে দেখতে পেলেন,প্রত্যেক কবরবাসী স্ব স্ব কবরে উপবিষ্ট। তাঁকে দেখে সবাই সমস্বরে বলে উঠল,ইনি মুতররাফ যিনি প্রতি শুক্রবার আমাদের কাছে আসেন। আমি (বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করলাম,তোমরাও কি শুক্রবার সম্পর্কে জানতে পার? তারা বলল,হ্যাঁ, ঐ দিন পাখিরা যাকিছু বলে,তাও শুনতে পাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, পাখিরা কি বলে? তারা বলল, পাখিরা বলেঃ সালাম,সালাম। (কিতাবুর রূহ, পৃঃ ৩)

২)শাবীব ইবনে শাইবা বলেন, মৃত্যুর সময় আমার মাতা অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, দাফন করার পর আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বল্বেঃ হে উম্মে শাবীব! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়। তিনি বলেন,অতএব দাফন করার পর আমি তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার অন্তিম ওসিয়ত পূর্ণ করলাম। রাতে তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম- তিনি বলছেন, বতস! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যদি আমাকে রক্ষা না করত, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম। শাবাশ বেটা! তুমি অসিয়ত স্মরণ রেখছ। (কিতাবুর রূহ, পৃঃ ১৫)


৩)রাজা ইবনে হায়াতের মৃত্যুর পর এক পুণ্যবতী মহিলা তাকে স্বপ্নে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রত্যাবর্তন কিসের দিকে হয়েছে? তিনি জবাব দিলেন,মঙ্গলের দিকে। কিন্তু মরণের পর আমি হতভম্ভ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ধারণা করেছিলাম যে, কিয়ামত এসে গেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? রাজা জবাব দিলেন,জাররাহ এবং তার সাথী সমস্ত সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন। ফলে জান্নাতের দরজায় ভীড় হয়ে গিয়েছিল। ((কিতাবুর রূহ, পৃঃ ২৯)


৪)আলী ইবনে আবি তালিব কাইরুয়ানী বলেনঃ ওমায়েরের স্বপ্নের ঘটনা ততটুকু বিস্ময়কর নয়,যতটুকু বিস্ময়কর আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহর ঘটনা। যা আমরা শহরে স্বচক্ষে দেখেছি। আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি স্বপনের মাধ্যমে মৃতব্যাক্তির গোপনীয় কথা জেনে ফেওলতেন এবং আত্মীয়স্বজনদের বলে দিতেন। এ ব্যাপারে তিনি কামালিয়াত বা পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন,ফলে অল্প দিনেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করলেন।((কিতাবুর রূহ, পৃঃ ৪৯)

এখন লা-মাযহাবী ভাইদের কাছে প্রশ্ন ফাযায়েলে আমলের ঘটনাগুলো (যদিও সেখানে রেফারেন্সসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে) শিরকী ঘটনা হয়,


তবে ইবনুল কাইয়ুম রহ.-এর লিখিত কিতাবুর রূহ কিতাবের ঘটনাগুলো কেন শিরকী কথা হবে না ???


কেন তারপরও তিনি আপনাদের কাছে গ্রহনযোগ্য আলেম ???


এবং তার কথাগুলো যদি গ্রহনযোগ্য হয় তবে কেন ফাযায়েলে আমলের ঘটনাগুলো গ্রহনযোগ্য হবে না ???

"
ফাযায়েলে আমালের মধ্যে যদি শিরকী কথা থাকে তবে এগুলো কেন শিরকী কথা হবে না ???"

আশা করি জবাবগুলো দিয়ে বাধিত করবে
www.facebook.com/islamicfreewill

Thursday, June 13, 2013

মুসলিম পরিবারে লজ্জা ও শালীনতা উপেক্ষেত কেন?????

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন-‘ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) তাই প্রত্যেক মুমিনেরই লজ্জার ভুষ্ণে ভুষিত হওয়া কর্তব্য। অপরদিকে লজ্জা মনুষত্বের পরিচায়ক। লজ্জা না থাকলে, মানুষ ও পশুর মাঝে তফাৎ থাকেনা। তাইতো হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-“যদি তোমার থেকে লজ্জা হারিয়ে যায়, তাহলে (বন্য পশুর মত) যা ইচ্ছা তাই করতে পারো।” (সহিহ বুখারী)
    আর বিষেশ করে নারীদের জন্য লজ্জা হচ্ছে অপরিহার্য গুণ। বলতে কি, প্রকৃত নারীর বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জাশীলতা ও শালীনতা। যে নারীর মাঝে শালীনতা নেই, প্রকৃতপক্ষে সে নারীই নয় এবং তার মাঝে স্বভাবগত নারীত্ব নেই বলা যায়।
    কিন্তু আফসোসের বিষয়, বর্তমানে অনেকের ভিতর আশানুরূপ লজ্জাশীলতাতো দেখতে পাওয়া যায়-ই না, আবার যার মাঝে একটু লাজুকতা পরিলক্ষিত হয় তাকে নিয়ে অন্যদের নানা ধরনের বিদ্রূপ করতে দেখা যায়। পরিণতিতে তার মাঝে যতটুকু লজ্জা ছিলো, তাও বিদ্রূপের ভয়ে হারিয়ে ফেলে। একি অধঃপতন আমাদের!!!
   আজ বড়ই দুঃখের বিষয়, আধুনিক পরিবার তো বটেয়, অনেক দ্বীনদার পরিবারেও এখন দেখা যায়-পর্দা ও লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে দুলাভাইয়ের সাথে স্ত্রীর ছোট বোনের বা শালিকার, দেবরের সাথে ভাবীর, বেয়াইয়ের সাথে বেয়াইনের প্রমুখের দেখা করা, অশালীন কথাবার্তা বলা, হাসি-মস্করা করা প্রভৃতি সবই যেন আজকের বিয়ে-শাদীতে সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে!!! অবশ্য রক্ষণশীল ইসলামী পরিবারে হয়ত সরাসরি দেখা করে না, কিন্তু আর সগুলো কাজ ঠিকই চলতে থাকে এভাবে তাদের মাখামাখি না করলে নাকি বিয়ের আনন্দই মাটি হয়ে যায়!!!!! (নাউযুবিল্লাহ) অথচ এসব সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয কাজ। এগুলো বিজাতীয় কুসংস্কার। ইসলাম এভাবে মেলামেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
   আরো পরিতাপের বিষয় হলো, বিয়ে-শাদীর অনুষ্টানে যদি কেউ এসব নাজায়িয কাজ থেকে বেঁচে থাকে, তাহলে সে হয়ে যায় পরিবারের অন্যদের সমালোচনার পাত্র। সবাই তাকে বলে অহংকারী, দেমাগী, মানুষের সাথে মিশে না, সামাজিকতা জানে না ইত্যাদি। তখন কেউ থাকে না তার পক্ষে কিছু বলার জন্য। এ আমাদের কেমন মুসলিম সমাজ যেখানে ইসলামের বিধান উপেক্ষিত!!!!
    একটি মেয়ের সবচেয়ে লজ্জাপূর্ণ সময় হচ্ছে তার বিবাহের সময়। অথচ এখন আধুনিক পরিবারে মেয়েরা বিয়ে হওয়ার আগেই হবু স্বামীর সাথে কথাবার্তা বলা, দেখা-সাক্ষাত করা, এক সাথে ঘুরতে যাওয়াসব করে। তাদের পরিবারের কাছেও এটা সামাজিক স্টার্টাসে পরিণত হয়েছে।(নাউযুবিল্লাহ)
   আমাদের প্রতিবেশীর এক মেয়ের বিবাহের সময় হবু বর-কনে একসাথে গিয়ে বিয়ের কানাকাটা করে এসেছে। এ কোন যমানায় এলাম!!! কোথায় গেলো মানুষের লজ্জা শরম!!!
  এতো গেলো আধুনিক পরিবারের কথা। এ লজ্জাহীনতার কুৎসিত  কালচার এখন আমাদের ইসলামী পরিবার গুলোতেও হানা দিতে শুরু করে দিয়েছে। আমাদের খুব নিকটাত্মীয় এক আপুর কথা জানি। তিনি ঢাকার এক মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেছেন। তার বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের কথা ছিল রোযার ঈদের পর। ঈদের আগের দিন বর আপুদের বাড়িতে ফোন করলেন। আপু ছিলেন তার নানা বাড়িতে। সে কথা জেনে তিনি তার নানার বাড়িতেও ফোন করলেন। হবু নানা শ্বশুর, নানা শাশুড়ি সবার সাথে কথা বললেন। তারপর বল্লেন-আপুর সাথে কথা বলবেন। আপুতো এমনিতেই কোন বেগান ছেলেদের সাথে কথ বলেন না। তার উপর তিনি খুব লাজুক। তাই তিনি কথা বলতে রাজী হলান না। তার নানু তাকে অনেক বঝালেন যে, শুধু মাত্র একটু ঈদ মুবারক জানিয়ে দাও। আপুর মেজাজ কড়া ছিল। তিনি যখন রাগ করলেন, তখন নানু চুপ হয়ে গেলেন। তারা সবাই আলেম পরিবারের হওয়া সত্ত্বেও পরপুরুষের সাথে কথা বলতে সংকোচ করলেন না এবং মেয়েকেও কথা বলাতে চাইলেন। আফসোস এ সমস্ত আলেম পরিবারের উপর!!! আপুত রাগ দেখিয়ে কথা বলা থেকে বাঁচতে পেরেছেন, কিন্তু এমন মেয়েদের  আর কয়জন মেয়ে পারে-গার্জিয়ানের প্রবল চাপ এড়িয়ে এভাবে বাঁচতে?????
এখানে ছেলেরাও আগ বারিয়ে কথা বলতে চায়। কথকা না বললে অনেক সমউ মেয়ে সামাজিকতা জানে না বলে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। তাই মেয়েদের বাধ্য হয়ে কথা বলতে হয়। নইলে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার পর মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিতে  যদি কষ্ট  হয়। তখন ওই মেয়ের পুনঃ বিয়ে ঠিক হওয়া পর্যন্ত তাকে সয্য করতে হয় পরিবার, সমাজ ও আত্মীয়-স্বজনদের নানা লাঞ্চনা-গঞ্জনা। মুসলিম পরিবারে এভাবে ইসলামের বিধান কেন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে??
   এ ধরনের নির্লজ্জকর আচরণের ফল কিছু শুভ হচ্ছে না। আজকের সমাজে যত নোংরামী, অশ্লীলতা, ইভটেজিং, ধর্ষণ প্রভৃতি হচ্ছে তা এসব বেপর্দেগীর কারণেই হচ্ছে। ইসলামের আইন-কানুন না মানার কারণে দিন দিন বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর পরিণতি নেমে আসছে নারী নির্যাতন, আপহরণ, ধর্ষণ প্রভৃতি রূপে।
       তাই জরুরীভাবে আমাদের কৃষ্টি-কালচার ও চালচলন শুধরানো দরকার। মুসলিম হয়ে যেন আমারা অমুস্লিমের নষ্ট কালচার গ্রহণ না করি। লজ্জা ও শালীনতা বজায় রেখে যেন নিজের ইজ্জত-সম্ভ্রমের হেফাজত করি। ইসলামের পর্দা বিধানের কোনরূপ বরখেলাফ যেন আমাদের দ্বারা না হয়। মুসলমান বলে নিজেদেরকে পরিচয় দিতে হলে, এ নিয়ম-নীতি আমাদের মেনে চলতেই হবে, যদি পরকালে জান্নাতের আশা করি।

মাইজভাণ্ডারী পীর ও তার আকীদা

https://www.facebook.com/islamicfreewillhttps://www.facebook.com/islamicfreewill
মাইজভান্ডারী
(মাইজভন্ডারী পীর ও তার অনুসারীদের মতবাদ)
“মাইজভান্ডারী পীর” বলতে চট্রগ্রাম মাইজভান্ডার দরবার-এর প্রতিষ্টাতা শাহ সূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাজভান্ডারী-কে বোঝানো হয়েছে। তার পিতার নাম মৌলভী সৈয়দ মতিউল্লাহ। তার মাতার নাম খায়রুন্নেছা। তিনি ১২৪৪ হিজরী মোতাবেক ১২৩৩বাংলা, ১৮২৬ ইংরেজী ১লা মাঘ রোজ বুধবার জন্মগ্রহণ করেন। চার বৎসর বয়স পার হওয়ার পর তাকে গ্রাম্য মক্তবে আরবী ও বাংলা শিক্ষা দেয়া হয়। ১২৬০ হিজরীতে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ৮ বৎসর লেখাপড়া করার পর ১২৬৮ সালে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া সমাপ্ত করেন। তারপর এক বৎসর যশোর জেলার বিচার বিভাগে কাজীপদে দায়িত্ব পালন করেন। তার পীর হযরত সূফী সৈয়দ মোহাম্মাদ ছালেহ লাহোরী। মাইজভান্ডারী পীর ১৯০৬ ঈসায়ী, ১৩২৩ সনে, বাংলা ১৩১৩ সালে ১০ই মাঘ মোতাবেক ২৭ জিলক্বদ সোমবার ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর তার পূত্র মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন তার স্থলাভিষিক্ত হন।
Jতথ্যসূত্র: গাউছুল আজম মাউজভান্ডারীর জীবনী অ কেরামত, সংকলন সংরাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী, পঞ্চদশ প্রকাশ জুলাই-২০০২।

মাইজভান্ডারী পীর ও তার অনুসারীদের আকিদা-বিশ্বাসঃ

মাইজভান্ডারী গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ- থেকে বেশ কিছু বই-পত্র প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে মাইজবান্ডারী পীরের পূত্র মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন কর্তৃক রচিত অ সম্পাদিত গ্রন্থ হল “বেলায়েতে মোতলাকা”, “মূলতত্ত্ব বা তজকীয়ায়ে মোখতাছার”, “মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া” এবং মাইজভান্ডারী পীরের জীবনী গ্রন্থ “মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত”। আরও রয়েছে শাহজাদা সৈয়দ মুনিরুল হক, মোনতাজেম গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, মাইজভান্ডার দরবার কর্তৃক প্রকাশিত মাইজভান্ডারী গানের সংকলন- “রত্ন ভান্ডার” এবং “আয়েনায়ে বারী ও ফয়জিয়াতে গাউছে মাইজভান্ডারী” প্রভৃতি। এ সব পুস্তক-পুস্তিকার আলোকে মাইজভান্ডারী পীর ও তার অনুসারীদের আকীদা-বিশ্বাস সমন্দ্বে যা জানা যায় তা হল------

. ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ।

এই “ধর্ম নিরপেক্ষতা” কথাটা প্রচলিত অর্থে ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়। বরং এ মতবাদ অনুসারে যে কোন ধর্মের লোককেই তার স্বধর্মে রেখে তাকে মুরীদ বানানো হয় এবং এটাকেই তার মক্তির জন্য যথেষ্ট মনে করা হয়। মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহনের আবশ্যকতা আছে বলে মনে করা হয় না। বরং মনে করা হয়- হিন্দু, বৌদ্ব, খৃস্টান যে কোন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্মে থেকে সাধনা করে মুক্তি পেতে পারে।
“মাইজভান্ডারীর জীবনী অ কেরামত” গ্রন্থে “হযরতের ধর্ম নিরপেক্ষতাঃ বৌদ্ধ ধননজয়কে স্বধর্মে রাখিয়া শিক্ষা” শিরোনামে লেখা হয়েছেঃ একদিন সকালে নাস্তার সময় নিশ্চিন্তপুর নিবাসী বৌদ্ধ ধননজয় নামক এক ব্যক্তি আসিয়া হযরতের নিকট ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হইবার জন্য বারবার অনুরোধ করতে লাগিলেন।………………. হযরত তাহাকে বলিলেন, “মিয়া! তুমি তোমার ধর্মে থাক। আমি তোমাকে মুসলমান করিলাম”। ইহার পরও তিনি বসিয়া রহিলেন। হযরতের খাদেম মৌলভী আহমদ ছফা কাঞ্চননগরী সাহেব তাহাকে পিছন হইতে ইশারা করিয়া ডাকিয়া নিলেন এবং বুঝাইয়া দিলেন যে, তাহাকে হাকিকত্বে মুস্লিম করা হইয়াছে। এ গ্রন্থেই আর এক পৃস্টা পরে জনৈক হিন্দু মুন্সেফ অভয়চরণকে স্বধর্মে রেখে দীক্ষা ও উপদেশ দানের কথা বর্ণিত হয়েছে।
J তথ্যসূত্রঃ মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত, সংকলন সংগ্রাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভান্ডারী, পঞ্চদশ প্রকাশঃ জুলাই-২০০২,পৃষ্টা: ১৫১-১৫২।

তারা এই ধর্ম-নিরপেক্ষতার আর এক নাম দিয়েছেন “তাওহীদ আদ্ইয়ান” তথা সর্ব ধর্মের ঐক্য। তাদের বক্তব্য হল যেকোন ধর্ম ঘৃণা থেকে বিমুখ করে তোলা যায়। এভাবে সব ধর্মের মধ্যে সমন্ব্য সাধন করা যায়। মাইজভান্ডারী সিলসিলার দ্বিতীয় পীর শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন (মৃত ১৯৮২ ইং) কর্তৃক রচিত “বেলায়েতে মোতালাকা” নামক গ্রন্থে “বেলায়েতে মোকাইয়্যাদা যুগ বিকাশ” শিরোনামের অধীনে “পরিবতিত বেলায়েতে মোতালাকা যুগ” উপশিরোনামে লেখা হয়েছেঃ
“সময়ের ব্যবধানে ও ইসলামী হুকুমাতের অবসানের ফলে ইস্লামী ধরমজগতে নানা এখতেলাফ বা মতানৈক্য দেখা দেয়। তখন পরম করুনাময় আল্লাহ তা’আলা তাঁহার বাতেনী শাসন পদ্ধতির প্রথানুযায়ী সমুচিত হেদায়েত ও উপযুক্ত শক্তিশালী ত্বরীক্তের প্রভাবে জগৎবাসীকে অন্দধকার হইতে সহজতম ভাবে উদ্ধার মানসে বেলায়েতে মোকাইয়্যাদায়ে মোহাম্মদীকে “বেলায়েতে মোতালাকায়ে আহমদী” রূপে পরবরতিত করেন। -------ইহা বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদকে নীতিগত ভাবে একই দৃষ্টিতে দেখে। কারণ ইহা মনে করে যে, বিভিন্ন মতবাদের “মত ও পথ” বিভিন্ন হইলেও প্রত্যেকের গন্তব্যস্থল এক”।
J তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে মোতালাকা, আলহাজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবার গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত,৮ম সংস্করণ, এপ্রিল২০০১, পৃষ্টা:৫৬-৫৭।
তারপর এই কথিত তৌহিদে আদ্ইয়ান বা ধর্ম ঐক্যের প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত পেশ করা হয়েছেঃ
“যারা মু’মিন, যারা ইয়াহুদী, এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন-(এদের মধ্যে) যারাই আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সূরাঃ২-বাকারাঃ৬২)
অথচ এ আয়াতে যে কোন ধর্মের লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা ঈমান আনলে এবং নেক কাজ করলে তারা পরকালে মুক্তি পাবে। আর একথা স্পষ্ট যে, ইসলাম ধর্ম আগমনের পর রাসূল (সাঃ) কে আখেরী নবী না মানলে তার ঈমান পূর্ন হবেনা। আর রাসূল (সাঃ)কে আখেরী নবী মানলে অন্যান্য সব ধর্মের বিধান রহিত মানতে হয়। তাহলে অন্য কোন ধর্মে থেকে মুক্তির অবকাশ রইল কোথায়?
উক্ত গ্রন্থে আরও লেখা হয়েছে, “মানবের রূচী অনুযায়ী ধর্ম মত গ্রহনেরে এখতেয়ার বা অধিকার প্রত্যেকের আছে। ইহার নাম ধর্ম স্বাধীনতা। এই বিষয়ে তৌহিদে আদ্ইয়্যান প্রবন্দ্বে আলোচনা আছে। ইহা বেলায়েতে মোতলাকার যুগোপযোগী ব্যবস্থা যাহা জনগণকে ধর্ম ঘৃণা বিমুখ করে।
L তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে মোতালাকা, আলহজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবারে গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত, ৮ম সংস্করণ, এপ্রিল ২০০১,পৃষ্টাঃ১২৯।

খন্ডন

https://www.facebook.com/islamicfreewill
আল্লাহ্‌র নিকট একমাত্র ইসলাম ধর্মই গ্রহণযোগ্য। অতএব ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে থেকে মক্তি পাওয়া যাবে না। এ ব্যপারে কুরআনে কারীম ইরশাদ হয়েছেঃ
“আল্লাহ্‌র কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হল ইসলাম”।
(সূরাঃ৩ আল-ইমরানঃ১৯)
“কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম সন্দ্বান করলে কস্মিঙ্কালেও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এমন ব্যক্তি পরকালে চির হতভাগাদের দলে থাকবে”।
(সূরাঃ৩ আল-ইমরানঃ৮৫)
মুসলিম শরীফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছেঃ
ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, এই উম্মতের ইয়াহুদী, নাসারানী যে কেউ আমার কথা শুনবে অতঃপর আমাকে যা সহ প্রেরণ করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান না এনে মৃতবরণ করবে, সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে।
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমামা নববী বলেছেনঃ
এখনে ইয়াহুদ, নাস্রাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অন্যদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে। কেননা, ইয়াহুদ নাসারাদের নিকট আসমানী কিতাব রয়েছে, এতদসত্ত্বেও তাদের যখন এই অবস্থা (যে, তাদের মুক্তিও শেষ নবীকে মান্য করার উপর নির্ভরশীল) তখন অন্য যাদের নিকট আসমানী কিতাব নেই তাদের অবস্থাতো অবশ্যই এমন হবে।
অন্য এক হাদিসে এসেছে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ
হযরত মূসা নবীও যদি জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ না করে তাঁরও কোন উপায় থাকত না।

. বিশেষ স্তরে শরী’আতের বিধান শিথিল হওয়ার মতবাদ।


উক্ত “বেলায়েত মোতলাকা” গ্রন্থে লেখা হয়েছেঃ
“শরীয়ত নাছূত বা দৃশ্যমান জগতের অবস্থা সহিত সম্পর্কযুক্ত। এবং এই স্তরের লোকদের জন্য অবতীর্ণ”। অতপর নিম্নোক্ত আয়াতের দিকে ইংগিত করে লেখ হয়েছে যে, “যদি কেহ বেকারার বা অস্থির বা বাধ্য হয় তাঁহার জন্য এই হুকুম প্রযোজ্য নহে”। যাহা অবস্থাভেদে ব্যবস্থার পরিপোষক বুঝা যায় এবং ইহা খোদার অনুগ্রহ ও ক্ষমার পর্যায়ভুক্ত।

L তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে মোতলাকা, আলহাজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবারে গাউসূল আজম মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত, ৮ম সংস্করণ, এপ্রিল-২০০১,পৃষ্টা:১৬।।
আয়াতটি এইঃ
আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।
(সূরাঃ৫-মায়িদাঃ৩)
উক্ত গ্রন্থে “বিধান শিথিল অবস্থা” উপ-শিরোনামে আরও লেখা হয়েছেঃ
“ইসলামী শরীয়াতী শিথিল আইন-কানূন মোয়ামেলাত শিথিল যুগে ইহা হুকুমতেরহুকুমের সঙ্গে যুক্ত হইতে বাধ্য। এবাদতে মোতনাফিয়া আচরণে ছূফীয়ায়ে কেরামগণ গোঁড়া সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে এবং উস্কানিদাতা মতলববাজ “আলেম” নামধারীলোকদের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করিতে না পারিয়া বহুদিন পূর্ব হইতে মোশাহেদা, মোরাকাবা ইত্যাদি ভিন্ন পন্থাও অবলম্বন করিয়াছিলেন। যেহেতু ত্বরীকত পন্থা শরীয়ত পন্থার পরবর্তী বিধার লাওয়ামা বা অনুতাপকারী স্তর হইতে আরম্ভ হয়। তাই উপরোক্ত বহির্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের দৃষ্টি ভঙ্গির সঙ্গে ইহার তফাথ দেখা যায়। এই কারণে জিকরে জবানীকে নাছূতী এবং জিক্রে কলবীকে মলকূতী বলা হয়।
তারপর “সূফী ধ্যান-ধারণা” উপশিরোনামে লেখা হয়েছেঃ-
“সূফীয়ায়ে কেরামগণ আত্মশুদ্ধকামী দ্বিতীয় স্তরের “লাওয়ামা” বা অনুতাপকারী চিন্তাশীল জনগণ হন বিধায় তাহারা ত্বরীকত পন্থী। তাহার ইখতেলাফ পরিহার করেন; অলীয়ে কামেলের জ্ঞান জ্যোতিঃ অনুসরণ করেন। বিধান ধর্মের উপর নৈতিক ধর্মের প্রাধান্য স্বীকার করেন এবং এবাদত বা উপাসনার উপর “এতায়াত” বা আনুগত্যকে শ্রেষ্টত্ব প্রদান করেন, যাহা উপাসনার উদ্দেশ্য”।
L তথ্যসূত্রঃ বেলায়েতে মোতলাকা, আলহাজ্জ শাহ সূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মোনতাজেম দরবারে গাউসূল আজম মাইজভান্ডারী কর্তৃক প্রকাশিত, ৮ম সংস্করণ, এপ্রিল-২০০১,পৃষ্টা:১১৮
এসব কথার দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, বিশেষ কামেল স্তরের ব্যক্তিবর্গের জন্য নামাজ, রোজা ইত্যাদি বিধানশিথিল হয়ে যায়। বস্তুতঃ এ কারণেই অনেক ভাণ্ডারীকে বাতিনী নামাজের নামে নামাজ থেকে বিরত থাকেন দেখা যায়।
তাদের উপরোক্ত বক্তব্য থেকে তাদের আরও একটি মতবাদ আছে বলে প্রমাণিত হয়। তা হলঃ

. শরীআত তরীকত ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার মতবাদ।
এই মতবাদের ভিত্তিতেই মনে করা হয় যে, শরী’আত সাধারণ স্তরের মানুষের জন্য। কামেল স্তরের মানুষের জন্য শরী’আতের বিধি-বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা থাকে না। শরী’আতে অনেক কিছু জরূরী যা ত্বরীকতে জরূরী নয়। উল্লেখ্য সুরেশ্বরী পীর ও তার ও অনুসারীদের আকিদাও অনুরূপ যে, শরী’আত ও তরীকত ভিন্ন ভিন্ন এবং কামেল ও বুযুর্গ হওয়ার পর তাদের আর ইবাদতের প্রয়োজন থাকেনা।
ইবাদত করা আমরণ দায়িত্ব। কোন স্তরেই এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাওয়া যায় না। এখন দেখা যাক কুরআন কি বলে--
“মৃত্যু পর্যন্ত তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর”।
(সূরাঃ১৫-হিজরঃ৯৯)
এ কথা সর্বজনবিদিত যে, আম্বিয়া আলিহিমুস সালাম এবং সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে অধিক বিশ্বাস আর কারও হতে পারেনা। তথাপি তাদের উপর আমরণ শরী;আত পালনের দায়িত্ব ছিল এবং তাঁরা আমরণ ইবাদত-বন্দেগী পালন করে গিয়েছেন। হযরত ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে কোরআনে মাজীদে ইরশাদ হয়েছে যে,
“সে বলল, আমি (ঈসা) আল্লাহ্‌ ত’আলার দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখনেই থাকি, আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায অযাকাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
(সূরাঃ১৯-মারইয়ামঃ৩০)
    মোটকথা আল্লাহ্‌র নবীর সমান ইয়াকীন-বিশ্বাস অর্জন করা কোন উম্মতের পক্ষে সম্ভব নয়। তদুপরি নবীকে আজীবন শরী’আতের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সেখানে একজন উম্মত এই ক্ষমত ও স্বাধীনতা কোত্থেকে পেল।
সূফীকুল শিরোমনি হযরত জুনাইদ বাগদাদী (রহঃ) কে কোন একজন লোক জিজ্ঞাসা করেছিল, কেউ কেউ বলে থাকে, আমরা তো পৌছে গেছি। এখন আর আমাদের শরী;আতের অনুসরণের প্রয়োজন নেই। তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ “হ্যাঁ, তারা পৌছে  গেছে, তবে জাহান্নামে”।
L তথ্যসূত্রঃ তাসাউফঃ তত্ত্ব ও পর্যালোচনা, বরাত- শরহু হাদীছিল, ইলম, ইবনে রজব (রহঃ)-১৬, সিরাতুল মুসতারশিদীনঃ৮৩ টিকা।।

. পীরের মধ্যে খাদায়িত্ব আরোপ করার মতবাদ।

তারা তাদের বিভিন্ন বইতে এমন সব কথা লিখেছেন যাতে বোঝা যায় তাদের ধারণা মতে পীরের মধ্যে আল্লাহ্‌র প্রকাশ ঘটেছে। অর্থাৎ, তাদের পীর আল্লাহ্‌র প্রকাশ বা আল্লাহ্‌র অবতার। এমনকি স্বয়ং খোদা। যেমন তারা বলেছেঃ
গাউছ বেশ ধৈরে ভবে খেলিতেছে নিরঞ্জনে।
তানে ভাবে যেবা ভিন, পাবে না সে প্রভূ চিন।
L তথ্যসূত্রঃ রন্তভান্ডার,প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-২১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।

এই কবিতায় মাইজভাণ্ডারীকে খোদার প্রকাশ হওয়ার দিকে ইংগিত করা হয়েছে। তারা আরও বলেছেঃ

“আগে কি জানিতাম আমি তুমি হে জগৎ স্বামী
তোমা কৃপা গুনে সব জীবের জীবন।
জান্তেম কি অরুন শশী দেবমান স্বর্গবাসী।
তব গুণে গুণী তব নূরের সৃজন
ছাপে ছিলে মানব ছলে হাদী প্রেমে পর পৈলে
গাউছ বেশ ধরি কোথা পালাবে এখন”।
L তথ্যসূত্রঃ রন্তভাণ্ডার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্টা-১১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।
এ কবিতায় মাইজভাণ্ডারীকে খোদার প্রকাশ হয়ায়র সাথে সাথা তার খোদা হওয়ার দিকে ইংগিত করা হয়েছে। এ ধারনা কুফরী।
আরও বলা হয়েছেঃ
সে আজলী সে আবদী সে এবতেদা,সে এন্তেহা।
সে আওয়ালে সে আখেরে সে জাহেরে সে বাতেনে।
L তথ্যসূত্রঃ প্রাগুক্ত,প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-২১

আরও বলা হয়েছেঃ
আউয়ালে আখের তুমি জাহের বাতেন তুমি।
তুমি হে নূরের ছটা সারা ভূবন মোহন।।
অহে কর্ত্তা জগরক্ষা ভিক্ষুকের দেও ভিক্ষা
কর হাদীর প্রান রক্ষা প্রিয়া গাউছ ধন।।
L তথ্যসূত্রঃ রন্তভাণ্ডার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্টা-১১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।
এসব কবিতায় খোদার জন্য যে সব সিফাত প্রযোজ্য সে সব মাইজভাণ্ডারীর জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে । এভাবে তাকে খোদার স্তরে পৌছে দেয়া হয়েছে, যাচরম গোমরাহী।
আরও বলা হয়েছেঃ
“আহমদে বেমিম তুঝে কাহতা হোঁ অয়াল্লাহ।
মিমকি পর্দ্দা কো মের ভিতু উঠা দাও”।।
L তথ্যসূত্রঃ প্রাগুক্ত, প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-২
এ কবিতায় পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হলেন আহাদ। আর মাইজভাণ্ডারী হলেন আহমদ। এই আহাদ ও আহমদের মদ্যে পার্থক্য কেবল একটা মীম হরফের। ন্তুবা আল্লাহ ও মাইজভান্ডারীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

. হায়াত-মওতের ব্যাপারে পীর নিয়ন্ত্রণঃ

      মাইজভাণ্ডারীগণ মনে করেন তাদের পীরের মদ্যে মানুষের হায়াত-মওতের ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রয়েছে। জীবনী ও কেরামত গ্রন্থে “হযরতের বেলায়তী ক্ষমতায় আজরাঈল হইতে রক্ষা ও মৃত্যু  সময় পরবর্তন” শিরোনামে মাইজভাণ্ডারী সাহেবের জনঙ্ক ভক্ত মৌলভী আব্দুল গনি সাহেব সম্পর্কে লেখা হয়েছে যে, তিনি একবার অসুস্থ হওয়ার পর একদিন হঠাৎ বেহুশ হয়ে পড়লে দেখতে পান যে, আজরাঈল কদাকার ভীষণ আকৃতিতে একখানা অসি নিয়ে তার বুকের উপর বসে তার গলায় চালাতে উদ্যত। এমনি সময় গাউছুল আজম (মাইজভাণ্ডারী সাহেব) সেখানে হাজির হলেন। তিনি তার অসি ছিনিয়ে নিলেন এবং তাকে বললেনঃ
“তুমি এখনি ফিরিয়ে যাও। আমি তাহাকে এক সপ্তাহের সময় দিলাম। তাহার সাথে আমার দরকারী কাজ আছে। তখন আজরাঈল হযরতকে কিছু বলিতে চাহিলে, তিনি অতিশ্য নারাজ ও জালাল হইয়া বলিয়া উঠিলেনঃ এখনই যাও। তোমার খোদাকে আমার কথা বলিও। আমি সম্য দিয়াছি”। তখন আজরাঈল চলিয়া গেল। তিনি সংজ্ঞা প্রাপ্ত হইয়া ধীরে ধীরে প্রায় সুস্থ হইয়া উঠিলেন।
L তথ্যসূত্রঃ মাইজভাণ্ডারীর জীবনী ও কেরামত, সংকলন সংগ্রাহকঃ মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন (মাইজভাণ্ডারী), পঞ্চদশ প্রকাশঃ জুলাই-২০০২, পৃষ্টা-১২৯।।
     পীর সম্বন্দ্বে এমন আকীদা হায়াত মওত সম্পর্কিত আকীদার পরিপন্থী। তদুপরি কোন মানুষ আল্লাহ্‌ ও ফেরেশতার উপর এমন মাতবরী দেখতে পারে তা বিশ্বাস করা ঈমান বিরোধী
     উল্লেখ্যঃ এ শ্রেণীর লোকেরা পীরকে খোদার স্তরে দিয়েছে। তার পীরের মধ্যে খোদায়ী গুণ আরোপ করেছে। পীরের হাতে থাকা ইত্যাদি খোদায়ী গুণ থাকাকে সাব্যস্ত করেছে। পূর্বে আমারা উল্লেখ করেছি-যারা আল্লাহ্‌র প্রবেশ করার মওত পোষণ করেন, বা পীর মাশায়েখকে খোদার স্তরে পৌছে দেয়, পীরকে খোদার প্রকাশ বলে, বা পীরের মধ্যে খোদায়ী গুণ আরোপ করে, তারা এ বিষয়ে সাধারণতঃ “সর্বেশ্বরবাদ” দর্শনের অপব্যাখ্যার আশ্র্য নিয়ে এটা করে থাকেন।

. পীর কর্তৃক পরকালে মুক্তি পাওয়ার মতবাদ।

      মাইজভাণ্ডারীদের মতবাদ হল পীর মৃত্যুকালে কষ্ট থেকে মুক্তি দিবেন, কবরে আরামের ব্যবস্থা করবেন, হাশরে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন। আমলে ত্রুটি থাকলে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করবেন। যেমন বলা হয়েছেঃ
              “দাসগনের প্রাণ হরিতে-ভয় নাহি দূত সমনে।
             ফুল দেখাই প্রাণ হরিবে-নিজ হাতে গাউছ ধন।
               মনকির নকিরের ডর-কবরে নাহিক মোর।
         আদবের চাবুক মেরে হাঁকাইবেন গাউছ ধন।
              কবর কোশাদা হবে-পুষ্পসয্যা বিছাইবে।
         সামনে বসি হালকা বন্দি-করাইবেন গাউছ ধনে
            হীন দাস হাদী কয়- হাশরেতে নাহি ভয়।
                পিছে পিছে দাসগণ ফিরাইবেন গাউছ ধন”।
L তথ্যসূত্রঃ রত্নভাণ্ডার, প্রথম খণ্ড, পৃষ্টা-১৭, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ-১৯৯৭।।
অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
          “গাউছজি, মাওলাজি ডাকছি তোমারে
               নাছুতী সঙ্কটে উদ্ধারিত মোরে
                দিন দুনিয়ার ছোওয়াব গুনা…….
            মিজানের পাল্লাখান, পোলছেরাতের ভাবাগোনা
                     রেহাই দেও মোরে”।
L তথ্যসূত্রঃ রন্তভাণ্ডার, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্টা-২৭, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।

. পীর কর্তৃক কামনা- বাসনা পূরণ  হওয়ার মতবাদ।

     এ প্রসঙ্গে তাদের নিম্নোক্ত কবিতাটি তুলে ধরা যায়ঃ
              “ভাণ্ডারীকে যে পাইল-খোদা রসূল সে চিনিল
             গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী পূর্ণ করেন বাসনা”।
L তথ্যসূত্রঃ রন্তভাণ্ডার, প্রথম খন্ড, পৃষ্টা-৩৩, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ, ১৯৯৭।।

. গান-বাদ্য জায়েয হওয়ার মতবাদ।

     তারা লিখেছেনঃ “যাহারা ছেমায় আসক্ত, ছেমা বা গান বাদ্য জনিত জিকির বা জিকরী মাহফিল করিতে চাহেন তাহাদের জন্য বাদ্যযন্ত্র সহকারে জিকির বা জিকরী মাহফিল করিবার অনুমতি ও আনুমোদন আছে”।
L তথ্যসূত্রঃ “মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লেদে গাউছিয়া’ মাইজভাণ্ডারীর দ্বিতীয় পীর – শাহ সূফী সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন কর্তৃক সম্পাদিত, ১১শ সংস্করণ, জুন-২০০২,পৃষ্টা-৪।

             গান-বাদ্য হারাম ও নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল


কুরআন থেকে দলীলঃ
 ১.কুরআনে কারীমে আল্লহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
“আর কতক লোক এমন রয়েছে যারা অজ্ঞতা বশতঃ মানুষ কে আল্লাহ্‌র পথ থেকে ভ্রষ্ট বা ভ্রান্ত করার জন্য গান-বাদ্যকে ক্রয়/অব্লম্বন করে”।
(সূরাঃ৩১-লুকামানঃ৬)
. অন্য স্থানে আল্লাহ্‌ ইরশাদ করেছেনঃ
   আল্লাহ্‌ তা’আলা শয়তাঙ্কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস “তোর আওয়াজ” দ্বারা সত্যচ্যুত কর”।
(সূরাঃ১৭-বনী ইসরাঈলঃ৬৪)
বিশিষ্ট তাফসীর কারক আল্লামা মুজাহিদ (রহঃ) “শয়তানের আওয়াজ”-এর ব্যাখ্যা করেছেন গান-বাদ্য ও অনর্থক ক্রিড়া-কৌতুক দ্বারা। সুতরাং যে গান-বাদ্য শয়তানের আওয়াজ তা কক্ষনো শরী’আতে বৈদ হতে পারেনা।