Thursday, June 13, 2013

মুসলিম পরিবারে লজ্জা ও শালীনতা উপেক্ষেত কেন?????

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইরশাদ করেন-‘ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) তাই প্রত্যেক মুমিনেরই লজ্জার ভুষ্ণে ভুষিত হওয়া কর্তব্য। অপরদিকে লজ্জা মনুষত্বের পরিচায়ক। লজ্জা না থাকলে, মানুষ ও পশুর মাঝে তফাৎ থাকেনা। তাইতো হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-“যদি তোমার থেকে লজ্জা হারিয়ে যায়, তাহলে (বন্য পশুর মত) যা ইচ্ছা তাই করতে পারো।” (সহিহ বুখারী)
    আর বিষেশ করে নারীদের জন্য লজ্জা হচ্ছে অপরিহার্য গুণ। বলতে কি, প্রকৃত নারীর বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জাশীলতা ও শালীনতা। যে নারীর মাঝে শালীনতা নেই, প্রকৃতপক্ষে সে নারীই নয় এবং তার মাঝে স্বভাবগত নারীত্ব নেই বলা যায়।
    কিন্তু আফসোসের বিষয়, বর্তমানে অনেকের ভিতর আশানুরূপ লজ্জাশীলতাতো দেখতে পাওয়া যায়-ই না, আবার যার মাঝে একটু লাজুকতা পরিলক্ষিত হয় তাকে নিয়ে অন্যদের নানা ধরনের বিদ্রূপ করতে দেখা যায়। পরিণতিতে তার মাঝে যতটুকু লজ্জা ছিলো, তাও বিদ্রূপের ভয়ে হারিয়ে ফেলে। একি অধঃপতন আমাদের!!!
   আজ বড়ই দুঃখের বিষয়, আধুনিক পরিবার তো বটেয়, অনেক দ্বীনদার পরিবারেও এখন দেখা যায়-পর্দা ও লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে দুলাভাইয়ের সাথে স্ত্রীর ছোট বোনের বা শালিকার, দেবরের সাথে ভাবীর, বেয়াইয়ের সাথে বেয়াইনের প্রমুখের দেখা করা, অশালীন কথাবার্তা বলা, হাসি-মস্করা করা প্রভৃতি সবই যেন আজকের বিয়ে-শাদীতে সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে!!! অবশ্য রক্ষণশীল ইসলামী পরিবারে হয়ত সরাসরি দেখা করে না, কিন্তু আর সগুলো কাজ ঠিকই চলতে থাকে এভাবে তাদের মাখামাখি না করলে নাকি বিয়ের আনন্দই মাটি হয়ে যায়!!!!! (নাউযুবিল্লাহ) অথচ এসব সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয কাজ। এগুলো বিজাতীয় কুসংস্কার। ইসলাম এভাবে মেলামেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
   আরো পরিতাপের বিষয় হলো, বিয়ে-শাদীর অনুষ্টানে যদি কেউ এসব নাজায়িয কাজ থেকে বেঁচে থাকে, তাহলে সে হয়ে যায় পরিবারের অন্যদের সমালোচনার পাত্র। সবাই তাকে বলে অহংকারী, দেমাগী, মানুষের সাথে মিশে না, সামাজিকতা জানে না ইত্যাদি। তখন কেউ থাকে না তার পক্ষে কিছু বলার জন্য। এ আমাদের কেমন মুসলিম সমাজ যেখানে ইসলামের বিধান উপেক্ষিত!!!!
    একটি মেয়ের সবচেয়ে লজ্জাপূর্ণ সময় হচ্ছে তার বিবাহের সময়। অথচ এখন আধুনিক পরিবারে মেয়েরা বিয়ে হওয়ার আগেই হবু স্বামীর সাথে কথাবার্তা বলা, দেখা-সাক্ষাত করা, এক সাথে ঘুরতে যাওয়াসব করে। তাদের পরিবারের কাছেও এটা সামাজিক স্টার্টাসে পরিণত হয়েছে।(নাউযুবিল্লাহ)
   আমাদের প্রতিবেশীর এক মেয়ের বিবাহের সময় হবু বর-কনে একসাথে গিয়ে বিয়ের কানাকাটা করে এসেছে। এ কোন যমানায় এলাম!!! কোথায় গেলো মানুষের লজ্জা শরম!!!
  এতো গেলো আধুনিক পরিবারের কথা। এ লজ্জাহীনতার কুৎসিত  কালচার এখন আমাদের ইসলামী পরিবার গুলোতেও হানা দিতে শুরু করে দিয়েছে। আমাদের খুব নিকটাত্মীয় এক আপুর কথা জানি। তিনি ঢাকার এক মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেছেন। তার বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের কথা ছিল রোযার ঈদের পর। ঈদের আগের দিন বর আপুদের বাড়িতে ফোন করলেন। আপু ছিলেন তার নানা বাড়িতে। সে কথা জেনে তিনি তার নানার বাড়িতেও ফোন করলেন। হবু নানা শ্বশুর, নানা শাশুড়ি সবার সাথে কথা বললেন। তারপর বল্লেন-আপুর সাথে কথা বলবেন। আপুতো এমনিতেই কোন বেগান ছেলেদের সাথে কথ বলেন না। তার উপর তিনি খুব লাজুক। তাই তিনি কথা বলতে রাজী হলান না। তার নানু তাকে অনেক বঝালেন যে, শুধু মাত্র একটু ঈদ মুবারক জানিয়ে দাও। আপুর মেজাজ কড়া ছিল। তিনি যখন রাগ করলেন, তখন নানু চুপ হয়ে গেলেন। তারা সবাই আলেম পরিবারের হওয়া সত্ত্বেও পরপুরুষের সাথে কথা বলতে সংকোচ করলেন না এবং মেয়েকেও কথা বলাতে চাইলেন। আফসোস এ সমস্ত আলেম পরিবারের উপর!!! আপুত রাগ দেখিয়ে কথা বলা থেকে বাঁচতে পেরেছেন, কিন্তু এমন মেয়েদের  আর কয়জন মেয়ে পারে-গার্জিয়ানের প্রবল চাপ এড়িয়ে এভাবে বাঁচতে?????
এখানে ছেলেরাও আগ বারিয়ে কথা বলতে চায়। কথকা না বললে অনেক সমউ মেয়ে সামাজিকতা জানে না বলে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। তাই মেয়েদের বাধ্য হয়ে কথা বলতে হয়। নইলে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার পর মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিতে  যদি কষ্ট  হয়। তখন ওই মেয়ের পুনঃ বিয়ে ঠিক হওয়া পর্যন্ত তাকে সয্য করতে হয় পরিবার, সমাজ ও আত্মীয়-স্বজনদের নানা লাঞ্চনা-গঞ্জনা। মুসলিম পরিবারে এভাবে ইসলামের বিধান কেন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে??
   এ ধরনের নির্লজ্জকর আচরণের ফল কিছু শুভ হচ্ছে না। আজকের সমাজে যত নোংরামী, অশ্লীলতা, ইভটেজিং, ধর্ষণ প্রভৃতি হচ্ছে তা এসব বেপর্দেগীর কারণেই হচ্ছে। ইসলামের আইন-কানুন না মানার কারণে দিন দিন বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর পরিণতি নেমে আসছে নারী নির্যাতন, আপহরণ, ধর্ষণ প্রভৃতি রূপে।
       তাই জরুরীভাবে আমাদের কৃষ্টি-কালচার ও চালচলন শুধরানো দরকার। মুসলিম হয়ে যেন আমারা অমুস্লিমের নষ্ট কালচার গ্রহণ না করি। লজ্জা ও শালীনতা বজায় রেখে যেন নিজের ইজ্জত-সম্ভ্রমের হেফাজত করি। ইসলামের পর্দা বিধানের কোনরূপ বরখেলাফ যেন আমাদের দ্বারা না হয়। মুসলমান বলে নিজেদেরকে পরিচয় দিতে হলে, এ নিয়ম-নীতি আমাদের মেনে চলতেই হবে, যদি পরকালে জান্নাতের আশা করি।

No comments:

Post a Comment